চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

[bangla_day]

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০২১-০৭-১২ ১৩:০৮:০৮

ইতিহাস সৃষ্টি করেই টুর্নামেন্ট সেরা ডনারুমা

খেলাধুলা ডেস্ক :
আরো একবার ব্যর্থ মনোরথে ফিরলো ইংলিশরা। বৃথাই গেল ওয়েম্বলির ৬০ হাজার মানুষের প্রার্থনা। ইউরোর শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকে ৩-২ গোলে হারালো আজ্জুরিরা। ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত মানিচিনি শিষ্যরা।

এই টানা অপরাজিত থেকে ইউরো জয়ের যিনি নায়ক তার নাম জিয়ানলুইগি ডনারুমা। তিনি ইতালির গোলরক্ষক। টাইব্রেকারে ইতালিকে ইউরোপ সেরার মুকুট এনে দেওয়ায় টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো গোলরক্ষকের হাতে উঠলো সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। আর টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জিতেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন ডনারুমা। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি শট রুখে দিয়ে হোম থেকে রোমে নিয়ে গেছেন এবারের ইউরো। পাশাপাশি ৫৩ বছর পর ইউরোপ সেরার মুকুট পুনরুদ্ধার করল ইতালি। শুধু যে পেনাল্টি ঠেকিয়েই সেরার মুকুট জিতেছেন এমনটাই নয়, টাইব্রেকারে প্রথম শট ইংলিশদের জালেও পাঠিয়েছেন ডনারুমা।
কেবল ফাইনালেই নয়, সেমিফাইনালে আজ্জুরিদের জয়ের নায়কও ছিলেন ডনারুমাই। ২২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক স্পেনের বিপক্ষেও নিজের সেরাটি দিয়ে দলকে টাইব্রেকারে নিয়ে  জয় এনে দিয়েছিলেন। এছাড়াও গ্রুপ পর্বে তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড এবং ওয়েলসের বিপক্ষেও  জাল অক্ষত রেখেছিলেন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে মাত্র চারটি গোল হজম করেছেন ডনারুমা।
দুর্দান্ত পারফর্ম করেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ডনারুমা। তাঁর আগে ১৯৯৬ সালে জার্মানির ম্যাথিয়াস সাম্মার, ২০০০ সালে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, ২০০৪ সালে গ্রীসের থিওডোরোস জাগোরাকিস, ২০০৮ সালে স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ, ২০১২ সালে স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং ২০১৬ সালে ফ্রান্সে অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান জিতেছিলেন এই পুরস্কার।
অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন পর্তুগীজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
টুর্নামেন্টে রোনালদোর সমান ৫ গোল করেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্যাট্রিক চেকও। তবে রোনালদো এগিয়েছেন অ্যাসিস্ট করার কারণে। রোনালদোর নামের পাশে একটি অ্যাসিস্টও থাকলেও শিকর নামের পাশে কোনো অ্যাসিস্ট নেই।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে দুই গোল, জার্মানির বিপক্ষে একটি এবং ফ্রান্সের বিপক্ষেও দুই গোল করেন রোনালদো। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ৫ গোল করে ফেলেছিলেন সিআর সেভেন। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রোনালদো গোল করতে ব্যর্থ হলে বিদায় নেয় তার দল।
শুধু তাই নয়, ১৪ গোল করে এবারই ইউরোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন সিআর সেভেন। এই টুর্নামেন্ট খেলার পথে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইরানের আলি দাইয়ির ১০৯ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
এবারের ইউরোতে ৪ গোল করেছেন ফ্রান্সের করিম বেনজেমা, বেলজিয়ামের রোমেলো লুকাকু, ডেনমার্কের এমিল ফোর্সবার্গও। আর তিন গোল করে আসে আরও পাঁচজনের পা থেকে।
এর আগে, ইউরোর শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকে হারায় আজ্জুরিরা। ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত মানিচিনি শিষ্যরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে। এতেই ৩-২ গোলে জয় তুলে নেয় ইতালি। 

আরো সংবাদ

%d bloggers like this: