চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

[bangla_day]

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০২১-০৭-১১ ২৩:৩৭:৫৫

পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে জাপান-আমেরিকার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রায় বছর দুয়েক আগে দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ইস্যুতে প্রকাশ্য অনুযোগ জানিয়েছিলেন, এবারে ঠিক সেই একই প্রশ্নে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযোগ জানাল জাপান ও আমেরিকা।

বিষয়টা আর কিছুই নয়, কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই দুম করে ভারতের বিদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়া। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার বাংলাদেশকে যে সিদ্ধান্তের পরিণাম ভুগতে হয়েছে।

গত মাসে ডাব্লিউটিও বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কৃষি বিষয়ক কমিটির বৈঠকে জাপানের আনা এক প্রস্তাবে বলা হয়, ভারত যেভাবে বারবার তাদের দেশ থেকে আচমকা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিচ্ছে তাতে আমদানিকারী দেশগুলো প্রবল অসুবিধায় পড়ছে।

এই ধরনের পদক্ষেপ যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কৃষি বিষয়ক সমঝোতার ১২ নম্বর আর্টিকলের বিরোধী, মনে করিয়ে দেওয়া সে কথাও।

এই প্রস্তাবের কো-স্পনসর ছিল আমেরিকা। অর্থাৎ ‘কোয়াড’ নামে যে কূটনৈতিক জোটে জাপান ও আমেরিকা ভারতের সঙ্গে শামিল, এই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার প্রশ্নে সেই জোটেরই দুই পার্টনার আর এক শরিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

রীতিমতো কঠোর ভাষায় ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘এইভাবে দুম করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার আগে ভারত আমদানিকারী দেশের খাদ্য নিরাপত্তার কথা আদৌ ভেবেছে কিনা, সেটাও ভারতকে ব্যাখ্যা করতে বলা হোক!’

কমিটির বৈঠকের যে কার্যবিবরণী বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ভারত জবাবে বলেছে, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম যাতে মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে সে জন্যই সাময়িকভাবে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে (পেঁয়াজ রফতানির ওপর) বিধিনিষেধ এক মাসের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০২০র অক্টোবরেই শিথিল করে দেওয়া হয়।

কিন্তু এই দুর্বল ব্যাখ্যা প্রস্তাবক দেশ জাপান বা আমেরিকাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

তারা কমিটির বৈঠকে মন্তব্য করে, ‘ভারত আমাদের এই প্রশ্নের কোনও সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেনি’। বিদেশে রফতানির জন্য দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটা অংশ ভারত কেন নির্ধারিত করে দিচ্ছে না (যাকে বলা হয় ‘এক্সপোর্ট কোটা’) সেটাও বোধগম্য নয় বলে ওই বৈঠকে মন্তব্য করা হয়।

বিদেশে পেঁয়াজ রফতানি দুমদাম বন্ধ করার জন্য ভারত কোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর আগে এরকম অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েনি।

গত অর্থ বছরেই (২০২০-২১) ভারত প্রায় ৩৭৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পেঁয়াজ বিদেশে রফতানি করেছে – যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ। তারা প্রায় একাই ১০১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পেঁয়াজ কিনেছে, এরপরই ছিল যথাক্রমে মালয়েশিয়া (৬২ মিলিয়ন), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৪৪ মিলিয়ন) ও শ্রীলঙ্কা (৪২ মিলিয়ন)।

কিন্তু গত কয়েক বছরে আগাম কোনও নোটিশ ছাড়া ভারত বারবার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় যে দেশেটিকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে, সেটিও বাংলাদেশ।

২০১৯ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লিতে এসে এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। সেবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে নিজের ভাষণে তিনি বলেন, ‘ভারত আচমকা পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় আমি নিজের কিচেনেও পেঁয়াজ ব্যবহারে রাশ টানতে বলেছি। ভারতকে অনুরোধ করবো এরপর কখনও রফতানি বন্ধ করতে হলে তারা যেন আগেভাগে জানায়, যাতে আমরা অন্য জায়গা থেকে পেঁয়াজ আনার প্রস্তুতি নিতে পারি।

অথচ এর পরের বছরও সেপ্টেম্বর মাসে আবার ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দেয়, এবং সেটা করা হয় কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই।

কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডাব্লিউটিও-তে এই ইস্যুতে দুটি প্রভাবশালী সদস্য দেশের চাপের মুখে পড়ার পর ভারতকে এখন বাড়তি সতর্ক হতেই হবে – বিদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করতে হলেও তার আগে দুবার অন্তত ভাবতেই হবে।

আরো সংবাদ

%d bloggers like this: