চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

প্রকাশ :  ২০২১-০৬-১০ ২৩:২৭:৫০

এমপি জাফর আলমকে দলীয় সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে  অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

চকরিয়া প্রতিনিধি :

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার খবরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
জয় বাংলা শ্লোগান ও জাফর ভাইয়ের কিছু হলে মুহুর্মুহ শ্লোগানে মহাসড়কের একাধিক স্থানে মহাসড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোটা হাতে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সড়ক অবরোধ করে।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এসি ল্যান্ড মো. তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ মহাসড়ক থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সরিয়ে দিতে গেলেও তারা পিছু হটে।
প্রসঙ্গত গতকাল বিকেলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগ চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে এমপি জাফর আলমের নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের গতরাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার প্রায় ৩৯ কিলোমিটার মহাসড়কের একপ্রান্তের আজিজনগর এবং অপরপ্রান্তের খুটাখালী পর্যন্ত কিছুদূর পর পর অসংখ্য ব্যারিকেড দেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।’
ওসি বলেন, ‘অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।

চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট নির্ভর রাজনীতি করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এরই অংশ হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের বলয়ের নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের আলোকে বিএনপি-জামায়াত ও আগুন সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক এমপি জাফর আলমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে।
লিটু বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের এই অন্যায্য ও হটকারী সিদ্ধান্ত তুলে না নেওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধই থাকবে।
প্রতিক্রিয়া জানতে কক্সবাজার-১ আসনের
সাংসদ জাফর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল ফোন না ধরায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি  ##

আরো সংবাদ