চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

[bangla_day]

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০২১-০৬-১০ ১৫:১০:৫৯

কোভ্যাক্স থেকে ‘সহজে সংরক্ষণযোগ্য’ টিকা চায় বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস :
করোনাভাইরাসের টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকে স্থানীয় আবহাওয়ার ‘উপযোগী’ সহজে সংরক্ষণ ও পরিবহনযোগ্য টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম  বলেন, “কোভ্যাক্স থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর বাংলাদেশ বলেছে, কোভ্যাক্স থেকে দেওয়া টিকা বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী না হলে ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে যাবে।”
কোভ্যাক্স থেকে ৬ কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ফাইজার-বায়োএনকেটের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা গত ১ জুন বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে।
কিন্তু ফাইজার-বায়োএনটেকের ওই টিকা সংরক্ষণ করতে হয় হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ফলে এ টিকা সংরক্ষণ করতে আল্ট্রা কোল্ড ফ্রিজারের প্রয়োজন হয়। আর পরিবহনের জন্য থার্মাল শিপিং কনটেইনার বা আল্ট্রা ফ্রিজার ভ্যান লাগে।
সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ২ ডিগ্রি থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হলে এ টিকা ৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী থাকে। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ টিকা দুই ঘণ্টা টেকে।
বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে পাঁচটি টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে তার মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন একটি।
অন্যগুলো হল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার তৈরি স্পুৎনিক-ভি, চীনের সিনোফার্মের তৈরি টিকার বিবিআইবিপি-সিওরভি (ইইওইচ-ঈড়ৎঠ) এবং চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি ‘করোনা ভ্যাক’।
ফাইজার-বায়োএনটেক ছাড়া বাকি চার কোম্পানির টিকাই সাধারণ রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়, যা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক।
অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোও যাতে করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা পায়, তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গ্যাভির নেতৃত্বে গঠিত কোভ্যাক্স ডব্লিউএইচওর অনুমোদন পাওয়া টিকাই দিচ্ছে বিভিন্ন দেশকে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি মডার্নার টিকাও রয়েছে, যা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে এই টিকা পরিবহন করাও কঠিন।
ডা. খুরশীদ আলম বলেন, “আমরা ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রেখেছি। এটা গলানোর জন্য ডাইলুয়েন্ট লাগে। টিকা বানিয়ে তা মানুষের শরীরে দিতে হয়। এটা টেকনিক্যালি আমাদের জন্য ঝামেলা। আমরা বলেছি, মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখা, এটাকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।”
তিনি জানান, কোভ্যাক্সের চিঠি পাওয়ার পর ইতোমধ্যে তারা টেলিফোনে কথা বলেছেন। শিগগিরই চিঠি দিয়েও বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিষয়গুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের জন্য চীনের সিনোফার্ম, সিনোভ্যাক, রাশিয়ার স্পুৎনিক ভি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা উপযোগী বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করে।
“আমরা সেটাই চেয়েছি। বলেছি, তোমরা এমন কিছু দিও না যেটা আমাদের জন্য সংরক্ষণ করা কঠিন। কোল্ড চেইন মেনটেইন করতে আমাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। সে টাকা কে দেবে,” বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

আরো সংবাদ