চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

[bangla_day]

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০২১-০৫-০৩ ১৬:১৬:১৭

কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজার আনলোড বন্দরের দুই বিভাগের লড়াই

স্ট্রেট দিল বৈধতা, হাইড্রোফার বলল অবৈধ তিন

মাসের অনুমতি নিয়ে পরোক্ষভাবে নদী

দখলের পথ সুগম করা হয়েছে

কাজী আয়েশা ফারজানা,বোয়ালখালী:

চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীর ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে ভূমি শাখা। জরুরিভিত্তিতে তা অপসারণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে হাইড্রোগ্রাফার শাখা। এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে ¯œায়ু-লড়াই চলছে। কর্ণফুলী নদীর বেপরোয়া অবৈধ দখল উচ্ছেদের রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের এক অনুষ্ঠানে নদীর তীর ইজারা না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী। মন্ত্রী ও আদালতের তোয়াক্কা না করে গত ৭ জানুয়ারি বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) মো. জিল্লুর রহমান নদীর কালুরঘাট সেতুর এলাকায় তিন মাসের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বালু আনলোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন। চার শর্তে ভলগেট থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। শর্তের মধ্যে রয়েছে, নদীর ব্যাংক লাইন থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে বালুর স্তুপ করা যাবে না। নদীর তীর ভরাট করা যাবে না। এছাড়াও রয়েছে, আনলোডিংয়ের কারণে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। বন্দরের বালু মহাল ইজারা বহির্ভূত মেসার্স হোমল্যাÐ বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নদীর তীর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন ডেপুটি ম্যানেজার। এনিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বন্দরের ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহালের ইজারাদাররা। তাদের অভিমত, অবৈধ সুবিধার আদায়ের মাধ্যমে ডেপুটি ম্যানেজার নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু আনলোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন। বন্দরের ইজারাদার ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে বন্দর এলাকায় আনলোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া বন্দর আইনের পরিপন্থী। সরেজমিন দেখা যায়, কালুরঘাট সেতু এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠেছে অন্তত ১০টি বালু মহাল। একইভাবে বন্দর থেকে তিন মাসের অনুমতি নিয়ে পরোক্ষভাবে নদীর তীর দখলের পথ সুগম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানটি জেলা প্রশাসনের অধীনে বালুমহাল-১ থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা পেয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে। তাই নদী থেকে উত্তোলিত বালু ভলগেট থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে আনলোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে সমস্যা দেখা দিলে চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না।’ তবে বন্দরের বালু সংক্রান্ত বিষয়ে দেখভালোর দায়িত্ব হাইড্রোগ্রাফার শাখার। কিন্তু আনালোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছে এস্টেট শাখা। বিধি ভঙ্গ করায় এস্টেট শাখাকে চিঠি দিয়েছে হাইড্রোগ্রাফার শাখা। চিফ হাইড্রোগ্রাফার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু এলাকা হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে অনুযায়ী বালুর ইজারা প্রদান করে বন্দর। শুধুমাত্র বন্দর কর্তৃক অনুমোদিত ইজারাদার প্রতিষ্ঠানই ড্রেজিং করতে পারবে। কালুরঘাট সেতু এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান আনলোড ড্রেজার অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এতে ড্রেজিং কাজে শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তাই আনলোড ড্রেজার দ্রæত অপসারণ করা প্রয়োজন। অবৈধ আনলোড ড্রেজার অপসারণের জন্য একই প্রতিষ্ঠানের অথারাইজড অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন চিফ হাইড্রোগ্রাফার। কাজী আয়েশা ফারজানা বোয়ালখালী,চট্টগ্রাম ০১৭৩২০৪৫৬২৬ কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজার আনলোড বন্দরের দুই বিভাগের ¯œায়ু-লড়াই এস্ট্রেট দিল বৈধতা, হাইড্রোফার বলল অবৈধ তিন মাসের অনুমতি নিয়ে পরোক্ষভাবে নদী দখলের পথ সুগম করা হয়েছে।

আরো সংবাদ