চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১

প্রকাশ :  ২০২১-০৩-০৩ ২২:৩৮:২০

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার রহস্য দুইদিনেই উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবদুল হককে (৮৫) হত্যার দুই দিনের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।

বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে গালিগালাজ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহকর্মী জমির উদ্দিন (২৮) তার গৃহকর্তা আবদুল হককে মাথায় লোহার কোরাবারি দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব তথ্য জানান সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান (জিকু)।

জমির উদ্দিন বাঁশখালী উপজেলার জলদি খলিশ্বাপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ১৬ বছর ধরে আবদুল হকের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করে আসছিলেন।

হত্যাকারীর বরাত দিয়ে জাকারিয়া রহমান বলেন, গত সোমবার (১ মার্চ) ভোরে গৃহকর্তা আবদুল হককে ঘুমন্তবস্থায় গৃহকর্মী জমির উদ্দিন প্রথমে লোহার কোরাবারি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এরপর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে জমির উদ্দিন হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য নিজের পায়ে ছুরি চালিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং কাপড় দিয়ে পা ও মুখ বেঁধে উপুড় হয়ে পড়ে থাকেন। জমির নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রথম দিকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেন। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে জমির একাই তার গৃহকর্তাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত খুন্তি, বালিশ, ছুরি ও পুকুর সেচ করে ফেলে দেওয়া তিনটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার ভোরে নিহত আবদুল হকের বড় ছেলে নেজাম উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্য মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, ওসি (তদন্ত) সুজন কুমার দে, থানার সেকেন্ড অফিসার আহসান হাবিব ও মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা শেখ সাইফুল আলম।

আরো সংবাদ