এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

হিজড়ারা মানুষ, তাঁদেরও ক্ষুধা আছে। করোনা মহামারীর সময় তাদের হিরো কে?

লেখক : দৈনিক সাঙ্গু | প্রকাশ: ২০২০-১২-২৯ ২০:০৩:০৮

বিনোদন ডেস্ক :
কেবল লৈঙ্গিক ভিন্নতার কারণে আপনার-আমার অবহেলা ও বৈষম্যপূর্ণ আচরণের শিকার হয়ে যাঁদের রাস্তাঘাটে হাত পাততে হয়, আমরা তাঁদের হিজড়া বলে চিনি। এই মহামারির মধ্যে কেমন আছেন তাঁরা? কীভাবে দিন কাটছে তাঁদের? আমার–আপনার সাহায্যের টাকায় যাঁরা ‘দিন আনি দিন খাই’ ভিত্তিতে চলেন, গত মাসগুলো কীভাবে তাঁদের পেট চলেছে? হিজড়াদের ঐতিহ্য চাঁদা তোলা। নববিবাহিত দম্পতি অথবা সদ্যোজাত শিশুর বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদের সূত্রে তাঁরা অর্থ চান। এ ছাড়া তাঁরা বাজারে গিয়ে দোকান থেকে নগদ অর্থসাহায্য প্রার্থনা করে থাকেন। অনেক সময় এ নিয়ে ব্যবসায়ী বা গৃহস্থের সঙ্গে তাঁদের বাদানুবাদও হয়। তবে এসব এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। হিজড়াদের একটি বড় অংশ যৌনবৃত্তিতে সম্পৃক্ত। লকডাউনের কারণে উপার্জনের সে রাস্তাও বন্ধ ছিলো। হিজড়াদের অপর একটি অংশ, যাদের কোতি বলা হয়ে থাকে, তারা সাধারণত হিজড়াদের ঐতিহ্যগত পেশায় অংশ না নিয়ে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের পরিবার থেকে পরিত্যাজ্য, পরিবারের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ নেই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাঁরা টিউশনি করেন অথবা নাচগান করেন অথবা যৌন ব্যবসার মাধ্যমে তাঁদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাঁরা যেহেতু হিজড়াদের মতো চাঁদাকেন্দ্রিক পেশায় নিয়োজিত নন, তাঁরা যেহেতু রূপান্তরকামী, তাঁদের নাজুকতা আরও বেশি। সে নাজুকতা মুহূর্তে তাদের পাশে হিরো হয়ে দাড়ান বাংলাদেশ জনপ্রিয় ও সাফাল্যবান ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার মনিষা মীম নিপুণ হিজড়া বা তাকে অনেকে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আল-আজাদ নামেও চিনেন। তিনি করোনা মহামারীকালিন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে সরকারি, এনজিও, টিভি চ্যানেল, ফেসবুক গ্রুপ ও যুব সংগঠন হতে সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রামের ১১১২ জন হিজড়ার পাশে দাড়িয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন মানুষ চাইলেই সব পারে। তার এই করোনা মহামারী কালিন সততা, দুর্দান্ত কাজ ও কমিউনিটি যুদ্ধের জন্য বেশ কিছু সম্মাননা ও পুরষ্কার পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরষ্কার গুলো হলো- বেষ্ট প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটেটর অব দ্যা ইয়ার ২০২০, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ারিজম অ্যাওয়ার্ড ২০২০, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও অ্যাকশন এইড। প্যানডামিক ফাইটার-২০২০, বি দ্যা চেঞ্জ কমিউনিটি ব্যাসড অরগানাইজেশান। তিনি এই পুরষ্কারগুলোর জন্য ধন্যবাদ জানায় বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইসিসিডিআরবি, ডিসপারেটলি সিকিং চিটাগং, যাত্রী ছাউনি, শিখর, লিউ ক্লাব চট্টগ্রাম অব বেঙ্গল সিটি, ৩২ ইন্জিঃ কনঃ বিগ্রেড, স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন , অগ্রগ্রাহী ফাউন্ডেশন, কিছু মুখের হাসি, সেভ দ্য চিলড্রেন, সেনা কল্যান সংস্থা, সার্জ বাংলাদেশ, এডিসি আব্দুর রউফ, ০৮ নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম, ফয়সাল চৌধুরী, রিসান মাহমুদ, আকরাম হোসেন, দিদারুল ইসলাম দিদার, সেলিনা, অপু মনিরুল, নাজমুন সিদ্দিকা শশী, সৈয়দ আহমেদ উল্লাহ আবির, মাহামুদুল হাসান।

Print Friendly and PDF