চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

প্রকাশ :  ২০২০-১২-০৩ ০০:৩০:০৮

ফাইতংয়ে বনাঞ্চলে ইটভাটা, চলছে প্রশাসকে ম্যানেজ করে

জান্নাতুল ফেরদৌস রুমি:

এ যেন মগের মুল্লুক, লাইসেন্স নেই পরিবেশ ছাড় পত্র নেই, কোনো প্রকার নিয়ম কানুন নেই শুধু প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গায়ের জোরে বান্দরবানের লামার ফাইতং ও আশেপাশে ৩০টি ইটভাটা চলছে। পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে গভীর বনের ভেতরে গড়ে উঠেছে ভাটাগুলো। জনৈক আওয়ামী লীগ নেতা কবির ও মোক্তার আহাম্মদের নেতৃত্বে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিনে-রাতে ভাটাগুলোতে কাঠপোড়ানো ও পাহাড় কাটা চলছে।
কবির আহাম্মদ ও মোক্তার প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে কোটি টাকার মিশন নিয়েনে নেমেছেন। অপকর্ম ঢাকা দিতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বনবিভাগ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাকে নগদ টাকা ছাড়াও নানা উপঢোকন দিচ্ছেন কবির আহাম্মদরা।
লামা বিভাগীয় বনকর্মকর্র্তা এসএম কাইসার দৈনিক সাঙ্গুকে জানান, ফাইতং এলাকায় কোনো ইটভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। আমরা মাঝে মাঝে অভিযান চালাই।
লামায় প্রাণ-প্রকৃতি একেবারেই ধ্বংস হতে চলছে। এলাকার লোকজন নানাভাবে প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ইটের ভাটায় নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। ভাটার জ্বালানী জোগান দিতে আশেপাশের বনভূমির গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে ২৫ ফুট উচ্চতার ড্যাম চিমনী দিয়ে চলছে অধিকাংশ ইটভাটা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, লামায় অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে স্কুলের পাশ ঘেঁষে। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক হোসনে আরা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অভিযোগ জানিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
অবৈধ ইটভাটা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, বনবিভাগ, প্রশাসন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই ইটভাটার অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধে হস্তক্ষেপ জরুরি। তিনি বলেন, পার্বত্যঞ্চলে সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করলে তা হবে যুগান্তকারী সীমান্ত।
জানা গেছে, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৩০টি ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে শুধু ফাইতং এলাকায় ২৪টি ইটের ভাটা রয়েছে। পাহাড় ও ফসলি জমি কেটে বনাঞ্চল-জনবসতির ভেতরে এসব ভাটা গড়ে উঠলেও প্রশাসন এখনো কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। এখানে যেন সরকারি কোনো আইন চলে না। সরকারি দলের কথিত নেতা পরিচয়ধারী মাহামুদুর হক, হুমায়ন কবির, শাহাআলম তিন জন মিলে ফাইতংয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে আলাদা রাজ্য।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বনাঞ্চল, জনবসতি ও স্কুল-কলেজের একশ’ গজের মধ্যে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু বান্দরবানের লামায় মানা হচ্ছে না এই নিয়ম। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে বনাঞ্চল, জনবসতি এবং প্রাইমারি স্কুলের পাশেই অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সবকটি ইটের ভাটা। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারি অনুমোদন ছাড়া ইটের ভাটাগুলো বন্ধে সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কার্যত কিছুই হয়নি।

আরো সংবাদ