চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

[bangla_day]

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০২০-১২-০৩ ০০:২৭:৫৭

মহানগর ছাত্রদল: যত টাকা, তত বড় পদ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ২৭২ সদস্যের কমিটিতে যোগ্যতা অভিজ্ঞতা দক্ষতাকে বাদ দিয়ে যে যত টাকা দিতে পেরেছেন তাকে তত বড় দিয়ে কমিটি সাজানো হয়েছে। যারা টাকা দিতে পারেনি তারা কমিটিতে থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে পদ বিক্রি করে ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাদের লেনদেন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই কমিটিতে ২৭২ জনের মধ্যে ২৬০ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ তার মধ্যে ১৮০ জন অছাত্র, ৮০ জন বিবাহিত ও ১২ জন দেশে না থেকেও প্রবাস থেকেই কমিটিতে পদ পাওয়া ও চুরি ছিনতাই, মাদক, ইয়াবা মামলার একাধিক আসামির নাম রয়েছে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেক দলের একাধিক পদে থাকা ব্যক্তিরাসহ চিকিৎসক, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ঠিকাদার, ওষুধ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানির এমআর, পেশাদার সন্ত্রাসীও নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ কমিটিতে ৪৯ জন সহ-সভাপতি, ৮০ জন যুগ্ম সম্পাদক, ৪৮ জনসহ-সাধারণ সম্পাদক ও ২৮ জন সহ-সাংগঠনিক পদ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে পদ-পদবি নিয়ে বাণিজ্য করার কারণে পদ নিয়ে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩০ নভেম্বর নগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে ত্যাগী, জেল, জুলুম নির্যাতনের শিকার নেতা কর্মীরা পদ পাওয়ায় দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত ২৭২ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালে নগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
১১ সদস্যের কমিটিতে গাজী মুহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলু সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। তারা সবাই বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এখন ছাত্রদল অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় সাংগঠনিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে। এরমধ্যে নগর ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন এরমধ্যে অভিযোগ রয়েছে নগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্রের সংখ্যা কমপক্ষে ১৮০। এদের মধ্যে চিকিৎসক, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ঠিকাদার, ওষুধ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানির এমআর, হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার, পেশাদার সন্ত্রাসীও রয়েছেন। বিদেশ থেকেও পদ পেয়েছে ১২ জন তারা হলেন যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম সাজেদুল ইসলাম অনিক বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। ৮ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে। সত্যজিত বড়ুয়া রূমুকে সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক করা হলেও সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদেও তার নাম রয়েছে। যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ হোসেন রেলের চাকরিতে আছেন তারা সম্পর্কে আপন ভাই। আরেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, আলা উদ্দীন আলো পার্ক ভিউ হাসপাতালের সুইপার, আমিনুল ইসলাম মামুন নগরীর চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দীনের কর্মচারীর নামও রয়েছে।
এ বিষয়ে নগর ছাত্রদলের নতুন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলা উদ্দীন আলো বলেন, আমি চকবাজারে ওয়ার্ড, ইউনিট, থানা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি হাসপাতালে চাকরি করি না। পার্ক ভিউ হাসপাতালের পার্টনার আমার মামা, আমার মামার পক্ষ থেকে আমি দেখাশুনা করি, চাকরি করার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি দন্ত বিভাগের ছাত্র হিসেবে একদিন একটা প্রশিক্ষণের জন্য ঐ হাসপাতালে গিয়েছিলাম, উক্ত হাসপাতালে চাকরি করার বিষয়ে আমার সম্পর্কে একটি আগের ছবি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেন তিনি জানান।
বিগত সময়ে আমাদের সাথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল এস এম রুম্মান জফার, জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, আবদুল আউয়াল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ মঈনুদ্দীন ওয়াসিম, সালেম মোহাম্মদ নাসিম, হুমায়ন ফারুক সজীব, আরমান আলি চৌধুরী, দিদার হোসেন, শফিকুল আলম স্বপন, জহির উদ্দীন, শেখ ইয়াসিন আলী নওশাদ, ইরফান রাজু, মঈনুদ্দিন খান রাজিব, মো. আরশে আজিম আরিফ, বিপ্লব চৌধুরী বিল্লু, গিয়াস উদ্দীন আবিদ, অপু চৌধুরী আকাশ, আলমগীর হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, আবু কায়সার চৌধুরী, মেঘ আকাশ, মোহাম্মদ মোবারক মিন মাহির, জুয়েল মির্জা, মামুনুর ইসলাম সানি, সায়িদ উদ্দীন সাব্বির, আব্দুল আল মামুন, নাদিম তালুকদার, বশির ইসলাম পলাশ,আব্দুল আল হাসান (সোনা মানিক), আফতাব উদ্দীন, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী চিশতী, কুতুব উদ্দিন নয়ন, সৈয়দ সাফওয়ান আলী, আরিফ সোহেল, মো. খলিলসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ত্যাগী নেতা কর্মী বাদ পড়েছেন।
যারা বাদ পড়েছেন তারা অধিকাংশ নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানা ছাত্রদল নেতা আরশে আজিম আরিফ জানান, কমিটিতে অনেক যোগ্য ব্যক্তি স্থান পেয়েছি, প্রতিটি পদ নাকি টাকার বিনিময়ে বন্টন করা হয়েছে, আমরা টাকা দিতে পারিনি তাই কমিটিতে রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে জসিম উদ্দীন মাহদী জানান, আমি ছাত্রদলকে ভালবেসে টিউশনি করে জমানো ৫০০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে প্রার্থী হয়েছিলাম। কমিটিতে দেখলাম আমাকে সদস্য পদেও রাখা হয়নি, ছাত্রদলের এমন নোংরা কর্মকান্ডে ঘৃণা লাগছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি বিপ্লব চৌধুরী বিল্লু বলেন, দলীয় প্রতিটি কর্মকান্ডে আমার সক্রিয়ভাবে থাকলেও পদে আমাদেরকে রাখা হয়নি কি কারণে কোন যুক্তিতে রাখা হয়নি বিষয়টি আমাদের জানালে উপকৃত হতাম। যারা পদ পেয়েছে তারা কিসের ভিত্তিতে পদ পেয়েছে, কোন যুক্তিতে পেয়েছে চট্টগ্রামের হাজার হাজার তৃণমূল নেতা কর্মী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও নগর বিএনপির অভিভাবকদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই।
এ বিষয়ে নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ বলেন, যারা বাদ পড়েছে তারা সবাইকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রের সাথে কথা হয়েছে। যদি একজন কর্মীও অবমূল্যায়ন হয় আমি ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করে বিদায় নিব, সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

আরো সংবাদ