‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, " আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, "পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একসময় সেই পাপই পচে গিয়ে ঝরে পড়ে। এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি তা বুঝতে পারে, তাহলে ভালো; না বুঝতে পারলে তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।"

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো বয়স মানে না। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই যেমন রাজপথে ছিল, তেমনি আগামী দিনেও সবাই এই আন্দোলনের অংশ হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই আপসহীন সংগ্রাম চলবে।

জেল-জুলুম ও ফাঁসির ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "জাতির মুক্তির জন্য যদি ফাঁসির রশিও প্রয়োজন হয়, তবে সেটিকে আমরা ফুলের মালা হিসেবে গ্রহণ করব। ফাঁসির মঞ্চেও আমরা ভীত হব না, বরং বিজয়ের জয়ধ্বনি উচ্চারণ করব।"

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, "ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারাও মজলুম ছিলেন। অথচ যেসব জুলুম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে, এখন আপনারা সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করছেন। ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ আপনাদের ফ্যাসিবাদী বলবেই। তাই ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহার করুন। জনগণকে সম্মান করলে জনগণও আপনাদের ফুল দিয়ে বরণ করবে। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। তবে আল্লাহর কসম করে বলছি, বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা সহ্য করব না।"

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমাদের জনমত ও গণরায় মেনে নিন। ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায়কে অস্বীকার করেছে, তাদের অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "আপস করার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের লোভও দেখানো হচ্ছে। তবে দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, আপনাদের গণরায়ের পাহারাদারি আমরা করব, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহর সাহায্যে এই দাবি আমরা আদায় করেই ছাড়ব। কোনো কিছুর বিনিময়ে, এমনকি জীবনের বিনিময়েও আমরা এই দাবি থেকে সরে আসব না।"

শিক্ষাঙ্গন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ছাত্র-শিক্ষক সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। গণরুম ও গেস্টরুমের সেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন; কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। জনগণ যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন দাম বাড়িয়ে সংকট দূর করা হয়। দাম বাড়িয়ে যদি সংকট দূর করা যায়, তবে আগে কেন তা করা হয় না? এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ফ্যাসিবাদী চর্চা ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা জনগণের সম্পদ লুটপাট ও চুরি-ডাকাতি করেছে, তাদের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক নেতার বক্তব্যই তার প্রমাণ। এটি কার্যত একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।

দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি—জনগণের দুর্ভোগ, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদে জ্বলে উঠব। কোনো বাধা মানব না। আল্লাহ তাআলার ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে। বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায্য ও ইনসাফভিত্তিক মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।"

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কাঠামোগত সংস্কার না করা হয়, এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে। তাদের ভেতর সেই প্রবণতা আছে। এই সরকারকে বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দাবি যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্ট্রো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক চিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা আগেই বলেছি, এই কাঠামো, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না যদি গোড়ায় আমরা পরিবর্তন না করি। মৌলিক পরিবর্তন না করি। এটা কোনো ব্যক্তি, প্রধানের, সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না।


এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে আমরা ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উদযাপন করলাম। এ বছর সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে একটি আয়োজন করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, আমরা আজকের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। যেটা ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ এবং সত্যিকার অর্থেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, পুরো চিত্র প্রদর্শনীতে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রকল্প ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ঘাত-প্রতিঘাত, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল, ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে অতিক্রম করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন মুক্তি এনে দিল এই দেশের মানুষকে, জনগণকে, আমরা আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা এই চিত্র প্রদর্শনী থেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার এবং যেটা আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হলো, কেড়ে নিল এই সরকার। কিন্তু আমাদের যে অঙ্গীকার, জুলাইয়ের অঙ্গীকার হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কার করা। তো সেই লড়াইটা এখন আসলে রয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের চিত্র প্রদর্শনীর বার্তাটা হচ্ছে এটাই যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা যদি ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার যে আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কারের সেই লড়াইটা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তারা দুইটা ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু একটা ভোটের ফলাফল তারা মানে নাই। আপনারা জানেন, গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

তিনি বলেন, এবারে যে সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন হলো, আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সেটার কী পরিস্থিতি। ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে দলীয়করণ এবং সবকিছুই সেখানে আপনারা দেখবেন। কোনো ধরনের সার্বজনীন বক্তব্য নাই, অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাংলাদেশ, জুলাই যে সকলের, সেই বার্তাটা তারা দিচ্ছে না। তারা সবকিছুকে দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী যেরকম দলীয়করণ করছে, একইভাবে ইতিহাসকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সারাদেশে ৫ আগস্ট কিন্তু দেখেছি, বিভিন্ন জেলায় যেসব সরকারি প্রোগ্রাম হয়েছে, সেখানে সরকার দলের বাইরে যেসব সমন্বয়ক বা জুলাই যোদ্ধা ছিল বা অন্য কোনো দলের মধ্যে থাকলে তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা অংশগ্রহণ করতে আসলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হামলাও করা হয়েছে। এইভাবে যখন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবার উদযাপন করল এবং আমরা বলি, শুধু উদযাপনে না, এটা আসলে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, খুব সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত ৫ আগস্ট দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম যে দিল্লিতে বসে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার শক্তি। এটা তো হওয়ার ছিল। এটা যে হঠাৎ করে হয়ে গেছে, এরকম কিন্তু না। সরকারের জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে, কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই কিন্তু পতিত স্বৈরাচার শক্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তি এটা করার সুযোগ পাচ্ছে।

আমরা বারবার বলেছি যে ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে, পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে, আমরা কিন্তু জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে চাই। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, এটাকে বলে বাগাড়ম্বর, চলতি ভাষায় আমরা বলি গলাবাজি।

তিনি বলেন, প্রেস রিলিজে, বক্তব্যে বড় বড় কথা বলতেছেন, কিন্তু আপনি কোনো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা তো হওয়ার কথাই ছিল। তারা তো ঘোষণা দিয়েই এবং দিল্লি সরকার তাদেরকে সহযোগিতা করতেছে, ভারত সরকার সহযোগিতা করতেছে। ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডাকা উচিত ছিল সরকারের এবং ডেকে কঠোরভাবে এটার নিন্দা জানানো উচিত ছিল। পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা হলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, কোন ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, সেটা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার দলের বন্ধুরা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে, ফ্যাসিবাদের প্রশ্নেও তারা নাকি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সংস্কার প্রশ্নে যেরকম তারা জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, বিচার প্রশ্নে এবং পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে ঠেকানোর প্রশ্নেও এই সরকার আসলে আপোষকামী সরকার। আপোষকামী হলে জনগণ তো বসে থাকবে না। এবং ১১ দলীয় ঐক্য আছে এবং যে সকল আরও সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে যারা সংস্কার এবং বিচার চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধ করব, তার বিচার নিশ্চিত করব এবং যে সংস্কার, গণভোটের যে গণরায়, সেই রায় অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নাহিদ বলেন, সরকার যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, এই কমিটি করে সরকার লেজিটিমেসি হারিয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিবর্তন যে তারা করতে চায় না এবং তাদের যে জনগণের আস্থা, সে আস্থাটি হারিয়েছে। ফলে সাংবিধানিক একটি সংকট তৈরি হয়েছে এবং সংকট তৈরি হয়েছে জনগণের আস্থা তারা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা যখন একটা সরকার হারায়, তখন তাদের টিকে থাকতে হয় ক্ষমতার দাপট এবং সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে। আর সেটা কিন্তু সেই চিত্র বিগত ১৬ বছরে যেরকম আমরা দেখেছি, এখন কিন্তু আমরা দেখছি এই সরকার সেটা শুরু করেছে। শুরু করেছে ক্যাম্পাসগুলোর মাধ্যমে। কারণ, যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা, আন্দোলনের দুর্গ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। ফলে ছাত্রনেতাদের ওপর, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ১১ দলের পক্ষে যেসব ছাত্রনেতারা রয়েছেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন শক্তিকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা আক্রমণ করছে নির্বিচারে।

এসময় এনসিপি ও জামায়াত ইসলামি র্শীষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
 




গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত।

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে—বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেভাবে চায় সেভাবে দেশ চালানো। আপনার চিন্তা-ভাবনা, চলাফেরা সবকিছুতে গণতন্ত্র না থাকলে মনে করতে হবে, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যর্থ বলে তাকে ৫ বছর যেতে দেবো না বলছি—এগুলো ফ্যাসিস্টের ভাষা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে তো গণতন্ত্র যাই না। আওয়ামী লীগ মুখে বলেছে গণতন্ত্র, কিন্তু কাজ করেছে উল্টো।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নাম বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে।’




সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ

সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ
ছবি সংগৃহীত।

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হন। 
মিছিলটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।
সচিবালয়ে ঘেরাও কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান। 
কর্মসুচিতে অংশ নিয়েছেন এসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

এর আগে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বেলা ১১টার পর এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও তা উপেক্ষা করেই জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা রাজপথে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যান।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত আছেন।