৮টি ক্যাম্প ও হোস্ট কমিউনিটিতে ছওয়াবের ব্যাপক কোরবানির মাংস বিতরণ

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিদেশি দাতাদের সহযোগিতায় ব্যাপক পরিসরে কোরবানি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করেছে মানবিক ও সামাজিক সংগঠন ছওয়াব।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও খাদ্যসংকটে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়। কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের এনজিও সেল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে ছওয়াব।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, চলতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও বিদেশি ডোনারদের আর্থিক সহায়তায় ছওয়াব এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু কোরবানি সম্পন্ন করা হয় এবং পরবর্তীতে উপকারভোগীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে মাংস বিতরণ করা হয়।
এবারের কোরবানি কার্যক্রম কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩, ৯, ১৪, ১৮, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বরে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি হোস্ট কমিউনিটিতেও কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা, কক্সবাজারের পালংখালী ইউনিয়নের হোস্ট কমিউনিটি এবং উখিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
ছওয়াবের প্রতিনিধিরা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকট, খাদ্যঘাটতি ও সীমিত জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ছওয়াবের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্বের অংশ। বিদেশি দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় আমরা বৃহৎ পরিসরে কোরবানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছওয়াব শুধু কোরবানি নয়, সারা বছর বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো।”
উল্লেখ্য, সকল কোরবানি কার্যক্রম ছওয়াবের দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, আরআরআরসি এবং সিআইসি অফিসের সাথে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ছওয়াবের চেয়ারম্যান বলেন, “মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিদেশি দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত অসহায় মানুষদের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, "সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ১৯৯৫ সালে ছওয়াব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে দেশব্যাপী মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।”
কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিটি কোরবানি ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করে ছওয়াবের মনিটরিং টিম। পাশাপাশি ক্যাম্প প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সহায়তা পান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শুধু ঈদকেন্দ্রিক সহায়তা নয়, ছওয়াব দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বছরজুড়েই বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিদেশি দাতারাও ছওয়াবের স্বচ্ছতা, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতার প্রশংসা করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে কোরবানির মাংস পেয়ে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করে ছওয়াব ও দাতাদের জন্য দোয়া করেছে। অনেকেই জানায়, সীমিত আয়ের কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় তারা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত থাকে। ঈদের এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে এনেছে।
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও আন্তর্জাতিক মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ছওয়াবের এ উদ্যোগ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।







