৫ দফা দাবিতে বুধবার থেকে সারাদেশে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের ডাক
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন

৫ দফা দাবিতে বুধবার থেকে সারাদেশে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের ডাক

৫ দফা দাবিতে বুধবার থেকে সারাদেশে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের ডাক
ছবি সংগৃহীত।

পাঁচ দফা দাবিতে বুবার (২৯ জুলাই) থেকে সারাদেশে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ অ‍্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অ‍্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর।

তিনি জানান, পাঁচ দফা দাবিতে আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

দাবিগুলো হলো-

১. অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত বাণিজ্যিক নীতিমালার বাস্তবায়ন।
২. প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের পার্কিং সুবিধা।
৩. হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সের জন্য টোল-ফ্রি ব্যবস্থা।
৪. লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান এবং লাশ বহনরত অ্যাম্বুলেন্সের জন্য টোল-ফ্রি সুবিধা।
৫. ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট
ছবি সংগৃহীত।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের কথা জানিয়েছেনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

আজ (বৃহস্পতিবার0 নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তফসিল ঘোষণা করেন সচিব।

ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট (রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও রাষ্ট্রপতি পদেই ছিলেন সাহাবুদ্দিন।

২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আপাতত অস্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 
 




বিরোধীদলীয় নেতা: ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি’

বিরোধীদলীয় নেতা: ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি’
ছবি সংগৃহীত।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।’

সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।’

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের ডাকা এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। 




আমরা নতজানু রাষ্ট্র পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা নতজানু রাষ্ট্র পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘শুরু থেকে আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সেই ক্লায়েন্ট স্টেট (নতজানু রাষ্ট্র) পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না, কখনোই না। এই কাজটা আমাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'জুলাই সংগ্রামের যে সাফল্য, সেই সাফল্যের একটি ভার আমাদের ওপর আছে এবং সেটা আমাদের বহন করতে হবে।'

‘প্রধানমন্ত্রী যে কথা আজ বললেন, ওই যে ক্লায়েন্ট স্টেট, ওই অবস্থায় যেন আমরা কখনো ফিরে না যাই। আর এ জন্য আমরা ফ্রন্টলাইনার। জুলাইয়ের যে কাজ (উদ্দেশ্য), সেটা আগামী দিনগুলোতে এগিয়ে নেওয়ার যে দায়িত্ব আমাদের, সেটা আপনারা কেউ ভুলবেন না; প্রতিনিয়ত মনে রাখবেন।’

তিনি বলেন, 'আমাকে যখন প্রফেসর ইউনূস বললেন, তার সরকারে যোগ দিতে, আমি যোগ দেওয়ার দিন তার সঙ্গে দেখা করিনি। আমি গিয়েছি হাসপাতালে এই আহতদের দেখতে। ফিরে এসে তাঁকে বলেছি, স্যার, আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই যে আমরা কী অবস্থায়, তাঁদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। সেই বাংলাদেশ আবার আসছে দেখে আমরা খুব আনন্দিত। যখন এই কথাগুলো আমরা শুনি, তখন আসলে বুঝতে পারি যে, আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনে বলেছিলেন, “জুলাই আন্দোলনের একটি বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশকে একটি ক্লায়েন্ট স্টেট হিসেবে দেখতে চাই না।” তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটি বললেন, সেটি সেই একই কথার প্রতিধ্বনি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ছেলেমেয়েগুলো, দুরন্ত ছেলেমেয়েগুলো, প্রবল এক লড়াইয়ে একটি ভয়াবহ দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনেছে। এনে আমাদের হাতে দিয়েছে। এই দেশটাকে যেন আমরা আমাদের মায়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, কাজ দিয়ে, ডেডিকেশন দিয়ে, মেধা দিয়ে এবং প্রজ্ঞা দিয়ে আগলে রাখতে পারি, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এ বিষয়ে আমাদের ফরেন সার্ভিসের যে দায়িত্ব, সেটা আমরা কখনো ভুলবো না। আপনারা প্রতিটি মুহূর্তে এ কথাটি মনে রাখবেন, শহীদরা আমাদের হাতে একটি বড় দায়িত্বভার দিয়ে গেছেন।’