স্বাধীনতা দিবস কুচকাওয়াজে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা দিবস কুচকাওয়াজে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য

স্বাধীনতা দিবস কুচকাওয়াজে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের দুই যুগের ধারাবাহিক সাফল্য ২০২৬ সালে পেয়েছে নতুন গতি। স্বাধীনতা দিবসের শিশু-কিশোর সমাবেশে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ-প্রতিটি স্তরেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

জেলা স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম-এ বিভাগীয় পর্যায়ের কুচকাওয়াজে দৃষ্টিনন্দন প্যারেড প্রদর্শনের জন্যে বরাবরের মতো এবারও কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় বিশেষ সম্মাননা। ২৯ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর একটি চৌকস প্যারেড দলের পরিবেশনায় চমৎকৃত হন প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দর্শনার্থীরা।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্টেডিয়ামে চারটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রতিটিতেই শীর্ষস্থান জিতে চমক সৃষ্টি করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেয় ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট প্যারেড ছোট ও বড় দল (উভয় দলে ৩২ জন), ২৩ সদস্যের ব্যান্ড দল এবং ১৪৬ জন খুদে শিশুর সমন্বয়ে গঠিত সুসজ্জিত ডিসপ্লে দল। কোয়ান্টামের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ নৈপুণ্যে বিমোহিত হয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা তাদের জানান উচ্ছ্বসিত অভিনন্দন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার জনাব আব্দুর রহমান।

উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতি বছরের মতো প্যারেড ও ডিসপ্লে উভয় ইভেন্টেই অপরাজেয় থেকে কুড়িয়ে নেয় মাঠ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা মুগ্ধ দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত করতালি। প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. মঈন উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. শাহজাহান কামাল ও তার সহধর্মিণী,লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র জনাব মো.আমির হোসেন,লামা উপজেলা বিএনপি-র সাবেক
সভাপতি জনাব মো. আবদুর রব, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০১ সালে শিক্ষালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২২ জাতিগোষ্ঠির আড়াই হাজারের বেশি ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী এখানে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে সম্পূর্ণ নিখরচায়, যা পার্বত্য বান্দরবান তথা সারা বাংলাদেশে যা সৃষ্টি করেছে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন লেখাপড়া ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের পাশাপাশি রয়েছে নিয়মিত মেডিটেশন, ইয়োগা ও শুদ্ধাচার চর্চা এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মেধা বিকাশের অপূর্ব সুযোগ। চলতি বছরে উচ্চশিক্ষার সুযোগপ্রাপ্ত ৩৮ জন সহ বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”