সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে মেধা-যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে মেধা-যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে মেধা-যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

মেধা ও যোগ্যতাই একজন সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পেশাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ডের’ সভায় উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তার শারীরিক সক্ষমতা ও শারীরিক উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর যে কোনো সাফল্যে তিনি গৌরববোধ করেন, আবার বাহিনী সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক খবর তাকে অস্বস্তিতে ফেলে।

ক্যান্টনমেন্ট তার গভীর আবেগ ও স্মৃতিময় স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনা পরিবেশেই তার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। সে কারণে সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা ও বিধিবিধান সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল এবং সেনাবাহিনীকে তিনি নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলে মনে করেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা হলেও শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

সরকারপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত। এ লক্ষ্য সামনে রেখে শহীদ প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এতে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণ সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয় বরং সম্ভাব্য সংকট, আগ্রাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আত্মনির্ভরশীল ও প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে। ভৌগোলিক সীমান্তের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। এ কারণে ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন মডেল অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেখানে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাহিনীর সদস্যরা সেখানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ডার রোড প্রকল্প সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনী ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী ২১৭ জন সেনাসদস্যের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান ও মালিতে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি।

একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় সময়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির অর্থনীতি সচল রাখা, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান, জুলাই গণজাগরণ এবং বন্যা পরিস্থিতিসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাহিনীকে আবারও যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।




নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

‘নিজেকে ছোট না ভেবে নিজেকে গড়ে তোলো, তাহলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’—নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তাহলেই আমরা ভবিষ্যতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—গ্যালারিতে যে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা তোমরা বসে আছ, তোমাদের মধ্য থেকেই এই দেশের ভালো ডাক্তার, ভালো স্থপতি, ভালো প্রকৌশলী, ভালো ক্রিকেটার, ভালো সাঁতারু ও ভালো টেনিস খেলোয়াড় তৈরি হবে।

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেরা খেলোয়াড় ও গুণী ব্যক্তিত্ব বের হয়ে আসবে। আজ তোমরা সেটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছ। তোমাদের মধ্য থেকেই এমন ভালো মানুষ তৈরি হবে, যারা এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কাজেই নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে বড় করে গড়ে তুলতে হবে। তুমি যত শক্তভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে, তোমার বাংলাদেশকেও তত সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ার ভাই যারা এখানে উপস্থিত আছেন—সেটি ইলেকট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়া যাই হোক—আপনাদের এবং আপনাদের সম্পাদকদের কাছে আমার একটি অনুরোধ আছে। আমরা সব সময় দেখি, পত্রিকায় বা খবরে বিভিন্ন বিষয়কে হাইলাইট বা ‘লিড নিউজ’ করা হয়। তবে আজ আপনারা যে ইভেন্টটি দেখে গেলেন, সেটিই মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা প্যান্ডেলের নিচে বসে আছে, যারা গ্যালারিতে বসে আছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, যত খবরই থাক না কেন, আগামীকাল আপনাদের পত্রিকা ও সম্প্রচারমাধ্যমে এই শিশুদের খেলার সংবাদটি যেন ‘লিড নিউজ’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। আশা করি, আজকের রাতের সংবাদে ও আগামীকালের পত্রিকায় আমাদের এই ভবিষ্যৎদের সুন্দরভাবে তুলে ধরবেন।

দেশের সমস্যা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমাদের বাংলাদেশে অনেক সমস্যা রয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করছি না। তবে এই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা দেখছি—বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা জানি, বহু স্কুলে এখনো প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা নেই; অনেক শ্রেণিকক্ষে হয়ত ফ্যানও সঠিকভাবে চলে না। আপনাদের এই সরকার সেসব সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা যায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার এই কাজ তখনই সার্থক হবে, যখন গ্যালারি ও সামনের সারিতে বসে থাকা তোমরা নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারবে। আজকের এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ইভেন্ট থেকে আমি তোমাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিতে চাই—তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তোলো, তবেই আমরা একযোগে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

‘বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে?’—অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তাদের জবাব জানতে চান। তিনি বলেন, কারা আমার সঙ্গে আছ, কারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাও—হাত তোলো। এ সময় পুরো গ্যালারির হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী একযোগে হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ার সময়ে মন দিয়ে পড়তে হবে, আর খেলার সময় একইভাবে মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় কিশোর-কিশোরীদের সহায়তা কামনা

পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার বিষয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটা আমাদের সবার। এই দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ যদি আমরা সবাই মিলে ঠিক রাখি, তবেই আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে বাঁচতে ও পড়াশোনা করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, তোমাদের কাছে আমার একটি বিশেষ অনুরোধ—রাস্তায় বা বাসার আশপাশে, এমনকি পুকুর-নদীনালায় কাউকে প্লাস্টিকের বোতল বা ময়লা ফেলতে দেখলে তোমরা তাকে বারণ করবে। প্রয়োজন হলে সেই ময়লাটি তোমরা নিজেরা তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলবে।

নদী-পুকুরের পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত করেন, কেউ জলাশয়ে ময়লা ফেললে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে, যাতে নদী ও পুকুরের পানি পরিচ্ছন্ন থাকে এবং মানুষ তার পাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারে। এছাড়া আমার আরেকটি চাওয়া হলো—তোমরা প্রতিবছর বাড়ি বা স্কুলের আশপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে। আমরা যদি গাছ লাগাতে পারি, তবে আমাদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হবে এবং আমরা সবাই বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারব।

শিশুদের সার্বিক বিকাশে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তোমাদের পাশে আছি। তোমরা যারা পড়াশোনা করতে চাও, সরকার থেকে আমরা সেই ব্যবস্থা করব যাতে সবাই ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারো। এছাড়া যারা গান গাইতে, ছবি আঁকতে কিংবা খেলাধুলা করতে চাও—সরকারের পক্ষ থেকে তোমাদের সব ধরনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, তবে তোমাদের সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের যোগ্য করে তোলো, তবেই আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই গড়ার কাজ হয়তো আমরা শুরু করেছি, কিন্তু একে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব তোমাদেরই।

অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে খুদে খেলোয়ারদের অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতায় এই পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে সন্তানদের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে—সেই বাবা-মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সহায়তাকারী কোচদের আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ফুটবলের ফাইনালে বিজয়ী দল বালকদের মধ্যে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকাদের মধ্যে রংপুর অঞ্চল। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন এবং প্রতিযোগিদের হাতে ক্রেস্ট –মেডেল ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬ সমাপনি অনুষ্ঠান হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছাড়া অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ছিলেন।

এর আগে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ডিসিপ্লিনে ধারাবাহিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। জাতীয় পর্বের খেলাগুলো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে।




হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ আসামির তালিকায় ‘হেভিওয়েট’ ৪১ জন

হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ আসামির তালিকায় ‘হেভিওয়েট’ ৪১ জন
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের তৎকালীন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মঈনুল করিম ও মার্জিনা রায়হান।

শেখ হাসিনা ছাড়া অপর আসামিরা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে আজ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।




জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
ছবি সংগৃহীত।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে পুরা জিয়া উদ্যানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে উপস্থিতি থাকতে দেখা যায়।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

শারীরিক অসুস্থতাজনিত বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই দিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।