সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানে ফ্রিজ-এসি মেরামত প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ১৯ জন
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানে ফ্রিজ-এসি মেরামত প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ১৯ জন

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানে ফ্রিজ-এসি মেরামত প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ১৯ জন
ছবি সংগৃহীত।

দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবানে ফ্রিজ ও এসি মেরামত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ১৯ জন তরুণের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেঘলায় এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারী।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে তরুণদের ফ্রিজ ও এসি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটি শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবভিত্তিক কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফ্রিজ ও এসির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষ মেরামতকারীর চাহিদাও রয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণরা দক্ষতা অর্জন করে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের কর্মমুখী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতা তৈরিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানে তরুণদের জন্য এ কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বান্দরবান সদর জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করে বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেঘলা।

প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

স্থানীয় তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুইমারা রিজিয়নের সার্বিক সহায়তায় এবং সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাসব্যাপী যৌথ চিকিৎসাসেবা ও বহুমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আজ সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী, গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সব জোন কমান্ডার এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধান অতিথি চারজন ব্যবসায়ীকে নতুন তৈরি দোকানঘর হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এক রোগীকে দোকানসামগ্রী ও চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার প্রসারে এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতে গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

যুবসমাজকে কর্মমুখী করার প্রয়াসে বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করাসহ মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এলাকার প্রায় ১,২০০ জন সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সর্বাত্মক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।




কুরুকপাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

কুরুকপাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে ‘প্রেন্নয় শিক্ষালয়’ আবাসিক হোস্টেলের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালে হোস্টেলের টয়লেট নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও পোশাকের জন্য দুটি প্রকল্পে মোট ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ ও মালামাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। তাদের দাবি, টয়লেট নির্মাণের জন্য বরাদ্দের টাকা খরচ দেখানো হলেও দীর্ঘদিন সেখানে ব্যবহারযোগ্য কোনো টয়লেট ছিল না। অভিযোগের পর এখন সেখানে নির্মাণসামগ্রী এনে কাজ শুরুর তৎপরতা দেখা গেছে।

অভিযোগটি করা হয়েছে ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং স্রোর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালে প্রেন্নয় শিক্ষালয়ের আবাসিক হোস্টেলের টয়লেট নির্মাণে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কোনো টয়লেট নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় ১৪৪ জন শিক্ষার্থীকে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করতে হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পর রাস্তার পাশে টয়লেট নির্মাণের কিছু সামগ্রী এনে রাখা এবং পরে মিস্ত্রি পাঠানোর ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

হোস্টালের শিক্ষার্থী রাওকাউ ম্রো বলেন, “আমাদের থাকার জায়গায় প্রয়োজনীয় বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় বাইরে যেতে হয়। এতে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। টয়লেটের জন্য বরাদ্দের কথা শুনেছি, কিন্তু এতদিনেও ভালোভাবে ব্যবহার করার মতো টয়লেট পাইনি।”

হোস্টালের শিক্ষক লেংরাও ম্রো বলেন, “প্রায় ১৪৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একটি আবাসিক হোস্টেলে এত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারযোগ্য বাথরুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের খোলা জায়গায় মলত্যাগ করতে হয়েছে। টয়লেট নির্মাণের জন্য আগে বরাদ্দ হয়ে থাকলে সেই অর্থে কেন কাজ হয়নি এবং অভিযোগের কেন নির্মাণকাজ শুরু হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।”

শুধু টয়লেট নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ইউনিফর্মের জন্যও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দাবি, চেয়ারম্যান নিজেই ঠিকাদারি ধাঁচে কাজটি পরিচালনা করেন। কিন্তু বরাদ্দের বিপরীতে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো ব্যাগ, পোশাকসহ কিছু সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাকি অর্থের ব্যবহার নিয়েই মূল প্রশ্ন।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য কামপুক ম্রো বলেন, হোস্টালকে ঘিরে থাকা প্রকল্পগুলোর প্রতিটিতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ ছিল বলে তিনি জানেন। এর মধ্যে হোস্টেলের একটি কাজ হলেও টয়লেট নির্মাণ হয়নি। শিক্ষা উপকরণ ও পোশাকের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ব্যাগ, স্কুল ড্রেস ও কিছু জুতা দেওয়া হয়েছিল। কিছু জুতার মাপ ঠিক না হওয়ায় পরে সেগুলো ফেরত নেওয়া হলেও আর বিতরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

প্রেন্নয় শিক্ষালয়ের পরিচালক ওতাংকিউ মারমা বলেন, প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত। চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়। তার ভাষ্য, চেয়ারম্যান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে “আমার নামে মামলা দেবেন” এমন কথাও বলেছেন।

স্থানীয় ইয়াংরিং কারবারির অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিনি একাধিকবার কথা বলেছেন। ইয়াংরিং কারবারিপাড়ায় একটি ধর্মীয় খিয়াংঘর নির্মাণের বিষয়েও চেয়ারম্যান তাকে আগে কাজ করতে বলেন এবং বিল তুলে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কারবারির দাবি, সেই আশ্বাসে তিনি নিজের আমবাগান বন্ধক রেখে কাজটি করেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পাওনা টাকা পাননি। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রেন্নয় শিক্ষালয়ের আবাসিক হোস্টেল ভবন থাকলেও এর মেঝের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। অন্যদিকে অভিযোগ দাখিলের পর টয়লেট নির্মাণের কিছু সামগ্রী আনা হয়েছে এবং নির্মাণকাজের জন্য মিস্ত্রি পাঠানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ফলে বরাদ্দের অর্থ আগে কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং এখন নতুন করে নির্মাণকাজের অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, চেয়ারম্যানের মেয়াদে আগের বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকাতেও বাস্তবে অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখানোর ঘটনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাগজপত্র, বিল-ভাউচার, অর্থ ছাড়ের নথি, পরিমাপ বই, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিল এবং প্রকল্পস্থল সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং স্রো বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তারাই এই অভিযোগ তুলেছে। আমিও আমার তহবিল থেকে সেখানে টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছি।”

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। তদন্তে প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাজের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে অভিযোগকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের কাগজপত্রের সঙ্গে সরেজমিন বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের টয়লেট প্রকল্পে কাজ না হয়ে থাকলে অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে এবং অভিযোগের পর শুরু হওয়া নির্মাণকাজের অর্থের উৎস কী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে।




রুমায় পানির সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে ১ লক্ষ লিটার ধারণক্ষমতার ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

রুমায় পানির সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে ১ লক্ষ লিটার ধারণক্ষমতার ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় ছয় শতাধিক মানুষের পানি সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এ পাড়াবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করত। তবে বেথেল পাড়াবাসীর এই দুর্দশায় এগিয়ে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এই এলাকা পরিদর্শনকালে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ফলশ্রুতিতে, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের দিকনির্দেশনায় রুমা জোনের উদ্যোগে অতিসত্বর ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেনাসদস্য ও পাড়াবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় এবং পাড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। বর্তমানে এই ওয়াটার রিজার্ভার থেকে সহজেই পাড়াবাসীসহ পথচারীরাও পানি সংগ্রহ করতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পাড়াবাসীরা জানিয়েছেন যে, আগে প্রায় ৭০০-৮০০ মিটার দূরের পাহাড়ি ঝিরি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে উঁচু পাহাড়ে উঠতে অনেক কষ্ট হতো। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি শুকিয়ে গেলে সেই পানিটুকুও পাওয়া যেত না। এখন আমাদের এই কষ্ট দূর হয়েছে।

প্রাক্তন মেম্বার লাল লুঙ থাং বম বলেন, আমাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সেনাবাহিনীকে পাশে পাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের কাছে আস্থার প্রতীক। ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে পাড়াবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমাদের পাড়ার দীর্ঘদিনের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা সেনাবাহিনীর কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে রুমা উপজেলার বিভিন্ন পাড়ায় পানি সংকট নিরসনে রুমা জোন বিশেষ অবদান রেখে আসছে। এর মধ্যে আরথাপাড়ায় ওয়াটার পাম্প ও জেনারেটর প্রদান, হ্যাপিহিল পাড়ায় ২ হাজার লিটার, চাইরাগ্র পাড়ায় ৫ হাজার লিটার ও সালেম পাড়ায় ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক প্রদান এবং বিভিন্ন পাড়ায় ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এ এলাকার মানুষের দুর্দশা ও দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জোন কমান্ডার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিভেদ ও বিবাদের চক্রান্ত রুখে দিয়ে সম্প্রীতি সুনিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি।

শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান দেশ ও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সারাবিশ্বেই আজ সমাদৃত। এ ধরনের মানবিক ও জনবান্ধব সেনাবাহিনী যেকোনো দেশের জন্যই গর্ব ও অহংকার।