সাতকানিয়ায় ৯ মামলার আসামি মোস্তাফিজুর রহমান 'মাস্টার' গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় হাতের আঙুল থেকে ছুরি দিয়ে নখ বিচ্ছিন্ন ও নারীর চোখ তুলে ফেলাসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত, এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং ৯ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ মাস্টারকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ।
বুধবার সকালে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ মাস্টার উল্লিখিত এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানায় মাদকসহ বিভিন্ন আইনে সর্বমোট ৯টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তিনি একসময় লোহাগাড়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেই থেকে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহির আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ফকিরখীল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে পুলিশ তাঁকে পুকুর থেকে তুলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ মাস্টার ফকিরখীল গ্রামের একটি দোকানের সামনে স্থানীয় স্বপন দাশকে (৭০) কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতের একটি আঙুলের নখ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে তিনি এক নারীকে নির্যাতন করে চোখ তুলে ফেলেন। এ ছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারকর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর সঙ্গে কারও মতবিরোধ হলেই তাঁকে বেধড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
আরও জানা যায়, ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ফকিরখীল এলাকায় তিনি একটি ব্যানার টাঙিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজেকে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কোনো ব্যক্তি যদি ওই ব্যানার নিয়ে মন্তব্য করেন, তবে তাঁকেও মারতে তেড়ে যান বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আঙুল থেকে ছুরি দিয়ে নখ বিচ্ছিন্ন ও এক নারীর চোখ তুলে ফেলাসহ সর্বমোট ৯টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ২টি মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে বুধবার (৩ জুন) দুপুর দুইটার দিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।






