সাতকানিয়ায় সাংবাদিককে ঠিকাদারের হুমকি, থানায় জিডি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরের ঘাট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে নিষেধ করায় মুঠোফোনে এক সাংবাদিককে হুমকি ও মা তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগালের অভিযোগ উঠেছে নূরুল আবছার নামে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। হুমকি পাওয়া সাংবাদিক মোহাম্মদ হোছাইন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক 'ইনফো বাংলা'র সাতকানিয়া প্রতিনিধি এবং সাতকানিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্ত ঠিকাদার মো. নুরুল আবছার সাতকানিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে বুধবার (১৩ মে) রাতে সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার ট্র্যাকিং নম্বর: BHIESS এবং জিডি নম্বর-৬১২। সাংবাদিক ও ঠিকাদারের মধ্যকার কথোপকথনের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকেরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দার পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ঢেমশা সতিপাড়া এলাকার ‘ফজর আলী ভেন্ডার’ পুকুরে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে একটি ঘাট নির্মাণের জন্য গত ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেন মোহাম্মদ হোছাইন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বরাদ্দ মঞ্জুর হলে উক্ত কাজের দায়িত্ব পায় এহসান এন্টারপ্রাইজ। পরে সাব-ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. নুরুল আবছার (৫২)। গত ১৩ মে (বুধবার) সকালে নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ শুরু করতে গেলে সাংবাদিক হোছাইন ও স্থানীয় এলাকাবাসী দেখতে পান কাজের জন্য আনা রডগুলো নিম্নমানের। সরকারি কাজের মান বজায় রাখার স্বার্থে সাংবাদিক মোহাম্মদ হোছাইন শ্রমিকদের নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাব-ঠিকাদার নুরুল আবছার তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর থেকে মোহাম্মদ হোছাইনের নম্বরে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের অডিও কথোপকথনে সাংবাদিককে ওই ঠিকাদার বলতে শোনা যায়—"নলা ভেঙে ফেলা হবে। এখানে আয়...। ১৭ বছর অনেক খেয়েছিস। মাথার টিকলি উপড়ে ফেলা হবে। এখানে এখন আয়।" এ সময় সাংবাদিকের মা তুলে গালাগাল করতে থাকেন ওই ঠিকাদার। অডিওতে তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, "বাহাদুরি মারছিস। হাজার হাজার ঠিকাদার কাজ করছে এসব রড দিয়ে। তুমি অনেক সরস হয়ে গেছ।" এ ছাড়া ভুক্তভোগী সাংবাদিককে মিথ্যা অপবাদও দেওয়া হচ্ছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ঠিকাদার নুরুল আবছার বলেন, "সাংবাদিক হোছাইনের সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাকে টাকা না দেওয়ায় সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, আমিও এর জবাব দিয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "নির্মাণসামগ্রী নিম্নমানের হলে প্রকৌশলী সাহেব তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক, তাতে আমার আপত্তি নাই।"
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, "টাকা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। এটা আমার নিজের তদবির করে আনা কাজ। ওই জাতীয় কোনো প্রমাণ উনি দেখাতে পারবেন না। সঠিক নিয়মে কাজ করতে বলায় ঠিকাদার আবছার আমাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, "নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদার কাজ করছেন এমন একটি মৌখিক অভিযোগ আমি পেয়েছি। ঠিকাদার ও সাংবাদিককে আমার কার্যালয়ে ডাকা হবে। তাঁদের কাছে বিষয়টি জেনে সমাধান দেব।"
সাতকানিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমান রুবেল বলেন, "সাংবাদিক কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে, এটা ভদ্রতা। এখানে ভদ্রতা তো দূরের কথা, উল্টো হুমকি ও মাকে জড়িয়ে গালাগাল মোটেই শোভনীয় নয়। এটার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধান হওয়া জরুরি। না হলে সাংবাদিকেরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।"
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাধারণ ডায়েরিভুক্তের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






