সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

রাঙামাটির সাজেকে আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সংস্থাটির অভিযোগ, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেকে ভ্রমণরত প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলাকালে সকাল আনুমানিক ১০টায় গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পর্যটকবাহী যানবাহন আটকে দেন অবরোধকারীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল তাঁদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।

আইএসপিআরের অভিযোগ, আলোচনা চলাকালে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সকাল আনুমানিক ১১টায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় আইএসপিআর।

অবরোধ ও সহিংসতাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে আইএসপিআর অভিযোগ করেছে, স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




মোংলা বন্দর পরিদর্শন করে যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলা বন্দর পরিদর্শন করে যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের জেটি এলাকায় গিয়ে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা ও কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনায় সরকারি সফরে মোংলায় পৌঁছান তারেক রহমান।

সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে যান। এর আগে খুলনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা হেলিকপ্টার ও জলযানে ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় যান তিনি।
বন্দরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।
পরিদর্শনের সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

বন্দর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।




দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি

দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি
ছবি সংগৃহীত।

জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি-তে দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যাকে একত্রে ‘পিএইচপি২শেল’ বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে আজ উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম বিজিডি ই-গভ সার্ট।

সংস্থাটি জানায়, ত্রুটি দুটির সিভিই আইডি হলো সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯। এর সিভিএসএস স্কোর ৯.২, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এই ত্রুটি ব্যবহার করে কোনও হ্যাকার কোনও ইউজারনেম বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে।

সার্টের পরামর্শ অনুযায়ী, সমস্যাটি পিএইচপি’র মেমোরি ব্যবস্থাপনায়। মেমোরি শেষ হয়ে গেলে বা মেমোরি মুক্ত হওয়ার পরও পুরোনো রিকোয়েস্টের ডেটা থেকে যাওয়ার সুযোগে আক্রমণকারী বিশেষভাবে তৈরি এইচটিটিপি রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পিএইচপি-এফপিএম এবং অ্যাপাচির মড_পিএইচপি ব্যবহারকারীরা। এছাড়া পিএইচপি-সিজিআই, ফ্র্যাঙ্কেনপিএইচপি, লাইটস্পিড, ডকার কন্টেইনার এবং শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে চলা সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক, ই-কমার্স, ওয়ার্ডপ্রেস ও লারাভেল ভিত্তিক সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সতর্কতায় বলা হয়, সফল আক্রমণ হলে পুরো সার্ভারের দখল চলে যাওয়া, ডেটা ও ফাইল চুরি, ডাটাবেসের পাসওয়ার্ড ও এপিআই কি ফাঁস এবং ওয়েবসাইট অচল হয়ে যাওয়ার মতো বড় ক্ষতি হতে পারে।

সমাধান হিসেবে অবিলম্বে পিএইচপি হালনাগাদ করতে বলেছে সার্ট। নিরাপদ সংস্করণগুলো হলো- ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ এবং ৮.২.৩৫। শুধু ফ্রেমওয়ার্ক নয়, সার্ভারের মূল পিএইচপি রানটাইম হালনাগাদ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, যারা এখনই প্যাচ দিতে পারবেন না, তাদের জন্য সাময়িকভাবে সার্ভার ভিপিএন এর পেছনে রাখা, আইপিভিত্তিক অনুমোদন তালিকা করা এবং লগ পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে সার্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, হালনাগাদ করাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।




নতুন বিধিমালা: বিমানে লেজার আলো ফেললে ব্যবস্থা

নতুন বিধিমালা: বিমানে লেজার আলো ফেললে ব্যবস্থা
ছবি সংগৃহীত।

বিমানে লেজার আলো ফেলে পাইলটের দৃষ্টিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যাহত হয়, এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিধান রেখে নতুন বিধিমালা করেছে সরকার।

‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ এ বিমান চলাচল, লাইসেন্স ও অনুমোদন, পাইলটের দায়িত্ব, যাত্রীদের আচরণ, বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর জারি করা নতুন বিধিমালায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রহিত করা হয়েছে ১৯৮৪ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা।

বিমান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, এমন লেজার আলো বা অন্য কোনো আলো ব্যবহারের বিষয়ে বিধিমালায় নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের আলো পাইলটের দৃষ্টিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

লাইসেন্স ও অনুমোদন স্থগিত বা বাতিল
বিমান পরিচালনা, উড্ডয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, অনুমোদন ও সনদ গ্রহণের বিধান রয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট বা অন্যান্য অনুমোদন স্থগিত কিংবা বাতিল করা যেতে পারে। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও নিয়ম মানার বিষয়টি যাচাই করতে পরিদর্শনও করতে পারবে বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বা জনস্বার্থে নির্দিষ্ট এলাকায় বিমান চলাচল সীমিত কিংবা নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। এসব এলাকায় বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও অনুমোদন মানতে হবে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পাশাপাশি অনির্ধারিত ফ্লাইট, চার্টার ফ্লাইট, ট্রানজিট, সাধারণ বিমান চলাচল এবং বিদেশি রাষ্ট্রীয় বিমানের চলাচলের বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে। এসব ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন ও শর্ত পূরণ করতে হবে। বিদেশি বিমানের চলাচল এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যাত্রী বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধিনিষেধ অনুসরণ করতে হবে।

ড্রোন পরিচালনায় অনুমোদন
ড্রোনসহ চালকবিহীন উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের বিধান রয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম এবং আকাশসীমার সুরক্ষা বিবেচনায় ড্রোন পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানতে হবে।

বিমান চালক এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, ফ্লাইট ক্রু ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দায়িত্ব পালনের আগের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মদ্যপান করতে পারবেন না। দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও বিমান পরিচালনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ বিধান রাখা হয়েছে।

পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে যাত্রী নেওয়া যাবে না
নতুন বিমান পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে সাধারণভাবে যাত্রী বহন করা যাবে না। তবে বিধিমালায় অনুমোদিত ক্ষেত্রে কার্গো বা ডাক পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ধারিত শর্ত ও নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিমানে অস্ত্র বহনে বিধিনিষেধ
বিমান ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র বহনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত অনুমোদন ও নিয়ম ছাড়া বিমানে অস্ত্র বহন করা যাবে না। অস্ত্র বহন বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় মাসে পরিদর্শনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সনদসংক্রান্ত নিয়ম রয়েছে। দাহ্য তরল সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। বিধিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১৫ লিটারের বেশি দাহ্য তরল রাখার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাখি ও বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ
বিমানবন্দরের আশপাশে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বিমান চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে বিমানের দিকে লেজার বা অন্য কোনো আলো নিক্ষেপ কিংবা এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, যা নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বিশৃঙ্খল যাত্রীকে বিমান থেকে নামানোর সুযোগ
বিমানে বিশৃঙ্খল আচরণ, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কিংবা ক্রুদের নির্দেশ অমান্য করার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া বা তার যাত্রা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বিমানবন্দর ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত কর্মসূচি, পরিকল্পনা এবং সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিধান রয়েছে। অনুমোদন ছাড়া এসব তথ্য প্রকাশ বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।

বিমানে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অনুমোদন ও নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহনের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। যেসব পণ্য বিমান, যাত্রী বা ক্রুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেগুলো পরিবহনে নির্ধারিত শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

বকেয়া চার্জ থাকলে আটকে যেতে পারে অনুমোদন
বিমানবন্দরের সেবা ও বিমান চলাচলসংক্রান্ত চার্জ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন বা সেবা আটকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে নোটিশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিধিমালায় ১২০ দিনের বকেয়া এবং ৩০ দিনের নোটিশের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী বিমান জব্দ, নিলাম বা সরিয়ে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও পণ্য চলাচল, শুল্কসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান রয়েছে নতুন নীতিমালায়। বিমান পরিবহনসংক্রান্ত ভাড়া বা ট্যারিফ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিয়ম রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ দিন আগে ট্যারিফসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে।