সাংবাদিকতার গুরুত্ব বেড়েছে, বেড়েছে চ্যালেঞ্জও: জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতার গুরুত্ব বেড়েছে, বেড়েছে চ্যালেঞ্জও: জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত

সাংবাদিকতার গুরুত্ব বেড়েছে, বেড়েছে চ্যালেঞ্জও: জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত
ছবি সংগৃহীত।

সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা যেমন সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি এ পেশার চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে সাংবাদিকতার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট থাকে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য এআই (AI), ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল এবং প্রশিক্ষক এস এস আল আরেফিনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজকের আয়োজনের একটি বিষয় আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে—অপেক্ষাকৃত নবীন সাংবাদিকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সবসময় আমাদের পথ দেখান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগও অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
সাংবাদিকতার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি বর্তমান পেশায় না আসতাম, তাহলে যে কয়েকটি পেশা বেছে নেওয়ার কথা ভাবতাম, সাংবাদিকতা তার অন্যতম হতো। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকাল এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময়ও বিভিন্ন পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। তবে এই মহত্ত্ব ধরে রাখার দায়িত্বও সাংবাদিকদেরই। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মর্যাদা আরও সুসংহত করা সম্ভব।”
মো. আনোয়ার সাদাত আরও বলেন, “একসময় সমাজের অনেকেই সাংবাদিকতাকে তেমন আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দেখতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। নতুন নতুন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং একটি জেলা পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিধি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলেই অসংখ্য আবেদন জমা পড়ে। এটি প্রমাণ করে যে সাংবাদিকতা আজ একটি সম্মানজনক, আকর্ষণীয় ও প্রভাবশালী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সাংবাদিকতার মর্যাদা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে হলে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল, প্রযুক্তিবান্ধব এবং সত্যনিষ্ঠ হতে হবে। তাহলেই এই পেশা ভবিষ্যতেও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
তিনদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্য যাচাই কৌশল, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক সুরক্ষাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”