সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে : শফিকুর রহমান
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে : শফিকুর রহমান

সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে : শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করায় সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করায় জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আমরা রাজপথে নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। জনগণের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনের জন্য।

তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে, প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আপনাদের দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আল্লাহ কবুল করবেন। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আপনারা বিজয়ের শেষ হাসি হেসে ঘরে ফিরবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লং মার্চের আয়োজন করে।

সকাল থেকেই রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকেরা লং মার্চে যোগ দিতে শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। পরে সেখান থেকে লং মার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।

শিমরাইলের অস্থায়ী মঞ্চে আয়োজিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতারা।

লং মার্চটি নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা শেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।




জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা প্রমাণিত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে— এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ একটি অপপ্রচারকারী দল, তাদের সঙ্গে আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে। এই দুই দলের আচরণ একই।’

তিনি বলেন, ‘অপপ্রচারে এই দুই দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কেউ টিকবে না।’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি বিচ্যুত হয়নি বলেও এ সময় দাবি করেন রিজভী।

দুর্গাপূজা উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারণে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার সফলভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব সম্পন্ন করতে পেরেছে।’

চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কোনও মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যান, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক এ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিনা পয়সায় ডেঙ্গু টেস্ট করতে সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউ যেন বিনা পরীক্ষায় হাসপাতাল থেকে ফেরত না যায়, তা এখন নিশ্চিত করতে হবে।’ 




সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত।

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, জানতে চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই প্রশ্ন তুলেছেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌঁড়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’ 




ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী

ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পরলে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে খাতায় না লিখলেও বাধ্যতামূলক পাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’ আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল। তখন গুণগত শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে শুধু পাসের হার (৯০-৯৫ শতাংশ) দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি খাতায় না লিখলেও পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর ওপর মহল থেকে ধমক দিয়ে বাধ্য করা হতো।’

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজকেই নিতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি উদাহরণ দেন যে, দাবি আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  বলেন, ‘বিএনপি সবসময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের অসাধারণ সমন্বয় করে এসেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে দল সচেতন। আমাদের দলের যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে শিক্ষক সমাজ কখনও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ প্রমুখ।