সমুদ্রে জেলেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

সমুদ্রে জেলেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি

সমুদ্রে জেলেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি
ছবি সংগৃহীত।

সমুদ্রে জেলেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফিশিং বোটে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ হলরুমে কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশ্ব ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন স্মার্ট প্রকল্পের আওতায় ‘সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।


কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন স্মার্ট ড্রাই ফিশ উপ-প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার আজমল হুদা সিদ্দিকী। 
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে সাগরে মাছ ধরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌ দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা জেলেদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছি। সমুদ্রে সহজ নেভিগেশন পদ্ধতি, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ, ভিএইচএফ রেডিও, ইকো-সাউন্ডোরের ব্যবহার, লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামের ব্যবহার, এবং দুর্ঘটনার সময় করণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করা হয়।


কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কক্সবাজার মোঃ নাজমুল হুদা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী বেইস স্বপ্নীল সিন্ধু কক্সবাজারের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন এম. হাবিবুল মওলা (এনডি, পিএসসি, বিএন), বাংলাদেশ সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র কক্সবাজারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান, কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল। 


এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আজাদ, সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসাইন, কুতুবদিয়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, সফল নারী উদ্যোক্তা নয়ন সেলিনা, জাহানারা ইসলাম, দৈনিক হিমছড়ির নির্বাহী সম্পাদক হুমায়ুন সিকদার, কক্সবাজার কন্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী ,বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মিজানুর রহমান প্রমূখ।
কর্মশালায় অতিথিরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য আকস্মিক বিপদ মোকাবিলায় বোটগুলোতে ভিএইচএফ রেডিও, ইকো-সাউন্ডার, জিপিএস, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেলেরা যেন সঠিক সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পায় এবং সংকটের সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে, সে বিষয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। তাছাড়াও, জেলে কার্ড গ্রহণ, বোট নিবন্ধন, সমুদ্রে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, প্রতিটি বোট প্রয়োজনানুযায়ী লাইফ জ্যাকেটের মতো জীবন রক্ষাকারী উপকরণ রাখার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়। 


উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, ঝুঁকি এবং সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের এই কর্মশালায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র এবং জেলা মৎস্যজীবী সমিতি, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ মোট ৫১ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর জিয়াউল করিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।




১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও খালের ওপর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনসাধারণের কোনো কাজে না এসে এখন উল্টো জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই মই তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।

১৭ জুলাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুতে ওঠানামার জন্য বড় একটি মই স্থাপন করেন। মুহূর্তেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় পাঁচ বছর আগে ঈদগাঁও খালের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। কিন্তু উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি আজও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন আর যাত্রীদের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত হটস্পট—হিমছড়ি, খেত ও সাঁততরা ডালা অতিক্রম করতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে যাতায়াত করেন। বিকল্প এই সেতু চালু হলে লাখো মানুষ নিরাপদ পথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঁচ বছর ধরে কোটি টাকার সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই সেতু চালু করা এখন জনগণের প্রাণের দাবি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল জানান, পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বانের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকলেও মানুষের চলাচলের প্রয়োজন থেমে নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অস্থায়ী মই বেয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? কোনো প্রাণহানির পর কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চালু করা হোক। এতে শুধু পাঁচ বছরের দুর্ভোগের অবসানই হবে না, বরং ডাকাতি-অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ঈদগাঁও-ঈদগড়সহ পাহাড়ি জনপদের লাখো মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।




কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল

কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আতাহার ইকবাল (৭৪) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

২১ জুলাই মধ্যরাত ১টার দিকে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোক জনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও একজন মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে। 
বুধবার বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। 

আতাহার ইকবাল একাধারে সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, বেতার উপস্থাপক সর্বোপরি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু। 
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আতাহার ইকবাল কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরংগ, সাগর বানী দৈনিক বাকখালীর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুর্বকোন দৈনিক নয়াবাংলা ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ দৈনিক মানবজমিন দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভুমিকায়। 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘকাল তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জড়িত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের সাথে। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সেক্রেটারি এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যান। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর দীর্ঘদিনের সভাপতি। 

শোক প্রকাশ:
সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। 
শোক বার্তায় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান কক্সবাজারের গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারালো।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান নেতৃবৃন্দ। 

মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়ার আর্জি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমীন।




টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে ব্র্যাক ব্যাংক পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে টানা সাত দিন ধরে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাংশে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি ব্যাংক ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আকবার সওদাগর ও জসিম উদ্দিন সওদাগর বলেন, টানা সাত দিন ধরে পানি জমে থাকায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল আলিম, কাশেম ও তৌহিদের নেতৃত্বে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।