সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল

সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল
সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে বিশাল মিছিলের নেতৃত্বে ইকবাল হায়দার চৌধুরী

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিএনপির চার সংসদ সদস্যের উদ্যোগে সারা দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সভা ও গণমিছিলে বড় একটি মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হায়দার চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এ. জে. চৌধুরী কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এমপির সভাপতিত্বে ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় মিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন প্রমুখ। এতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে হলুদ টুপি পরিহিত এই মিছিল সমাবেশে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে।

মিছিল ও সমাবেশ সম্পর্কে ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, "দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদেই আজকের এই সমাবেশ। কোনো মিছিল, পোস্টার বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিএনপিকে শঙ্কিত করা যাবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ আছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। যারা নির্বাচনের সময় ধানের শীষের বিরোধিতা করেছে, তাদের এখন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত নয়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মোকাবিলা করব।"




পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়কে ৩৫ বছরেও সংস্কার নেই

পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়কে ৩৫ বছরেও সংস্কার নেই
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষায় কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নাকাল হতে হয় পথচারীদের। বর্তমানে অনেক স্থানে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দরবেশহাট ডিসি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হাসনাপাড়া ব্রিজ থেকে উত্তর পহরচাঁদা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এ সড়কটি পুটিবিলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। নোয়াপাড়া, পহরচাঁদা, হানিফার পাড়া, নতুনপাড়া, আশ্রয়ণ পাড়া, খনির পাড়া, পূর্বপাড়া ও বড়ুয়া পাড়ার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩৫ বছর ধরে সড়কটি ব্যবহৃত হলেও এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার বা পাকাকরণ করা হয়নি। ২০২২ সালে সড়কটি এলজিইডির আইডিভুক্ত হলেও দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত। কোথাও কাদা, কোথাও ভাঙা সড়কের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে মাটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। সড়কের এমন অবস্থায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে চলতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়কের আশপাশে রয়েছে হাসনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়, গৌড়স্থান আখতারিয়া পাড়া দাখিল মাদ্রাসা, পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পহরচাঁদা এবতেদায়ী মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্ষায় কাদার কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলতে হয়।

সড়কটির দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে তাদের বাড়তি সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন যেতে না পারায় মাথায় বা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বহন করতে হচ্ছে।

নোয়াপাড়ার বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মদ আবু ছালেক ও মোস্তফিজুর রহমানসহ স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির একই অবস্থা। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু পরে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে সড়কের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পহরচাঁদা পর্যন্ত সড়কটি উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
 




লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়ল শিশু, চমেকে মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়ল শিশু, চমেকে মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ায় মহাসড়ক পারাপারের সময় বাসের ধাক্কায় মোহাম্মদ সুরাইম (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে চুনতি ইউনিয়নের নলবনিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দারুল কোরআন ইবতেদায়ী মাদরাসা গেইট সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরাইম ওই এলাকার মোহাম্মদ বেলালের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মাদরাসা গেইটের সামনে মহাসড়ক পার হচ্ছিল শিশু সুরাইম। এ সময় চট্টগ্রামমুখী হানিফ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-২৯৭১) তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরাইমকে মৃত ঘোষণা করেন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, ঘটনার বিষয় শুনেছি, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 




লোহাগাড়ায় খরিদা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, প্রবাসীকে গুম-খুনের হুমকির অভিযোগ

লোহাগাড়ায় খরিদা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, প্রবাসীকে গুম-খুনের হুমকির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ায় খরিদা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সৌদি প্রবাসীকে গুম-খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার জমিতে প্রবেশ করে সীমানা চিহ্নিত খুঁটি উপড়ে ফেলার চেষ্টারও অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী আকতার হোসেন (৩৭) বাদী হয়ে আব্দুস শুক্কুর (৪৪) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরম্বা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজঘাটা এলাকায় ২০ শতক জমি নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। আকতার হোসেন দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর আধুনগর এসআর অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৪২৭০ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে মজিলিশ খাতুনের কাছ থেকে তিনি ২০ শতক জমি ক্রয় করেন। পরে নামজারি করে খাজনা পরিশোধসহ জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, আব্দুস শুক্কুর ওই জমি নিজের দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি।

গত ১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুস শুকুরসহ কয়েকজন ওই জমিতে গিয়ে সীমানা চিহ্নিত খুঁটি উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন আকতার। বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও মারধরের জন্য তেড়ে আসা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গুম-খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তের ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফুফি মজিলিশ খাতুনের নামে করা কবলার বৈধতা নিয়ে একটি মামলা করা হয়েছিল। তবে মামলার বিষয়টি আমরা আদালতে প্রমাণ করতে পারিনি। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। মূলত কাগজপত্র অনুযায়ী মজিলিশ খাতুনই ওই জায়গার মালিক। তিনি ইতোমধ্যে জায়গাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপরও শুক্কুর বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করছেন বলে আমরা মনে করি। এটি তার স্বভাবগত বিষয়।

মজিলিশ খাতুন বলেন, তার পালক বাবা গুনু মিয়া তাকে জায়গা দান করেছিলেন। এ নিয়ে তার ভাতিজা শুক্কুরে পরিবার আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর তিনি ২০ শতক জমি বিক্রি করে ক্রেতা আক্তার হোসেন গং কে দখল বুঝিয়ে দেন।

অভিযুক্ত আব্দুস শুক্কুর বলেন, মজিলিশ খাতুনকে তার দাদা জায়গাটি দানপত্র করেছেন দাবি করলে তারা কবলার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালতে হাজির হতে না পারায় মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীকে হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।