সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, অভিযুক্ত রামগড় থানার এসআই আনসার আলী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, অভিযুক্ত রামগড় থানার এসআই আনসার আলী

সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, অভিযুক্ত রামগড় থানার এসআই আনসার আলী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহকালে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে রামগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনসার আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত ২২ জুন সোমবার উপজেলার ফেনীরকুল স্কেল সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাংবাদিক সাহেদ রানা বলেন, আমার বাড়ীর পাশ্ববর্তী বাড়ী থেকে ১৫ বছরের ১টি শিশু এবং ১৯ বছরের এক যুবককে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সিভিল পোষাকে দুইজন পুলিশ সদস্য এসে তাদেরকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিচয় জানতে চাইলে এসআই আনসার আলী বলেন তুই কে? আমি সাংবাদিক  পরিচয় দেওয়ার পরে ওই পুলিশ সদস্য আরও খারাপ ব্যবহার করতে থাকে এবং বলে তুই কিসের সাংবাদিক তোরা ভন্ড, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিদের সাথে তোকেও থানায় নিয়ে যাব এসব বলে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে এসআই আনসার আলী তার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও পেশাগতভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া বা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পরিপন্থী।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আনসার আলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজির আলম কে রামগড় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জানালে তিনি ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাহেদ রানার কোন বক্তব্য না নিয়ে এসআই আনসার আলীর পক্ষ নিয়ে সাফাই গান।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ সামনে আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”