সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল

সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এমটি সি স্পাইক ও এমভি সান শাইনের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনায় তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইকের কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে এবং জাহাজ থেকে কোনো ধরনের তেল নিঃসরণ হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী এমটি সি স্পাইক নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে তীব্র স্রোতের কারণে ট্যাংকারটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এমটি সি স্পাইকের সব কটি কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কার্গো ট্যাংকে কোনো পানি প্রবেশ করেনি। ফলে জাহাজে থাকা ডিজেলও নিরাপদ রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সংঘর্ষের পর ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমের পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক এক বর্গমিটার ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে সাময়িক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজটির ভিএইচএফ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হয়। জাহাজটি স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙরের ১০ শ্যাকেল করে চেইন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী, ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভাসমান থাকবে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রমে নামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্ডারী-৮ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বন্দর কতৃপক্ষ জানায়, দ্রুততম সময়ে ট্যাংকারে থাকা জ্বালানি তেল খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজের ফাটল মেরামত ও উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।




সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জুনায়েত কাউছার বলেন, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জন মারা গেছেন।

এর আগে আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৫-২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ অবশ্য জানান, হতাহতদের অনেকে শ্রমিক নন, উৎসুক জনতা। তিনি বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার দিকে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজ হয়। স্থানীয় অনেকে বিষয়টি দেখতে গেলে গ্যাসে আক্রান্ত হন।

ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, এখানে বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে প্রথমে এটিকে বিস্ফোরণ বলে মনে করেছিলেন।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগমও বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ১০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো জানা যায়নি। গ্যাস নির্গমন নাকি বিস্ফোরণ, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জোড়া ধাক্কায় ছুটির দিনেও স্বস্তি নেই চট্টগ্রামে

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জোড়া ধাক্কায় ছুটির দিনেও স্বস্তি নেই চট্টগ্রামে
ছবি সংগৃহীত।

সপ্তাহের কাজের ব্যস্ততা শেষে শুক্রবার মানেই একটু স্বস্তির দিন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর ভালো খাবারের আয়োজন থাকে এই দিনে। কিন্তু চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের বাসিন্দাদের এবারের শুক্রবারের চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের জোড়া ধাক্কায় নাকাল নগরবাসী।

একদিকে গ্যাসের অভাবে জ্বলছে না রান্নার চুলা, অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ওপরও; আয়ের আশায় রাস্তায় নেমে ছুটির দিনটি তাঁদের কাটছে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে প্রহর গুনে।

সকাল থেকেই বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা জ্বলেনি। যেখানে জ্বলেছে, সেখানে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে রান্না তো দূরের কথা, পানি গরম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় টান পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। সব মিলিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎহীন গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

একসঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। কাজীর দেউড়ি এলাকার গৃহিণী কুমকুম আজাদ বলেন, ‘সকাল থেকে চুলায় গ্যাসের দেখা নেই। চাপ এতটাই কম যে পানি ফোটানো তো দূরের কথা, গরম করাই দায়। বাধ্য হয়ে পরিবারের জন্য বাইরে থেকে কেনা খাবারের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।’

একই চিত্র সাব-এরিয়া ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও। সেখানকার বাসিন্দা ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে রান্না বন্ধ, আবার রাতে গরমে বিদ্যুতের অভাবে চোখে ঘুম নেই। শিশু আর বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে।’

“রাত থেকে লাইনেই ৭-৮ ঘণ্টা পার করে দিলাম। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাব কীভাবে, আর পরিবারকেই বা কী খাওয়াব?” — রহিম উল্লাহ, অটোরিকশাচালক

বহদ্দারহাট এলাকার এক বাসিন্দার আক্ষেপও একই রকম। তিনি বলেন, ‘সারা সপ্তাহ কাজের পর শুক্রবারে পরিবার নিয়ে একটু ভালো-মন্দ খাওয়ার সুযোগ থাকে। অথচ আজ সকাল থেকে একটুও গ্যাস নেই। বাচ্চারা ঘরে, বৃদ্ধ বাবা-মা ঘরে—সবাইকে নিয়ে এখন চরম বিপদে আছি। শেষ পর্যন্ত হোটেল থেকে চড়া দামে খাবার কিনে আনতে হলো।’

গ্যাস ও বিদ্যুতের এমন অনিশ্চয়তায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও। শিক্ষিকা সুলতানা কাজী বলেন, ‘কোনো কিছুরই স্থিরতা নেই। কখন গ্যাস আসবে আর কখন বিদ্যুৎ যাবে, তা কেউ বলতে পারছে না। বাচ্চারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা একেবারেই থমকে গেছে।’

পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি

গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, পড়েছে পরিবহন খাতেও। সরেজমিনে নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। মূল সড়ক ছাড়িয়ে লাইন চলে গেছে ভেতরের গলিতেও।

মইজ্জ্যারটেক এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষমাণ অটোরিকশাচালক রহিম উল্লাহ বলেন, ‘শুক্রবার দিনটায় ভেবেছিলাম অন্য দিনের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেব। মানুষ একটু ঘুরতে বের হয়, ভাড়া ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু রাত থেকে লাইনেই ৭-৮ ঘণ্টা পার করে দিলাম। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাব কীভাবে, আর পরিবারকেই বা কী খাওয়াব?’

আরেক চালক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাস নিতে এসে দিনের অর্ধেক সময় লাইনেই শেষ। গাড়ি না চালালে সংসার চলবে কী করে? এভাবে চলতে থাকলে তো না খেয়ে থাকতে হবে।’

“চট্টগ্রামে যেখানে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট, সেখানে রাতে চাহিদা কিছুটা কমলেও ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।” — মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, পিডিবি (চট্টগ্রাম অঞ্চল)

চালকদের আয়ের পথ কীভাবে বন্ধ হচ্ছে, তা উঠে এসেছে হেলাল উদ্দিন নামের আরেক চালকের কথায়। তিনি বলেন, ‘যাত্রী নিয়ে নামার আগেই তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে বসে থাকতে হয়। অথচ দিন শেষে মহাজনকে গাড়ির জমা ঠিকই দিতে হচ্ছে। সংসারের খরচ চালাব কী দিয়ে, বুঝে উঠতে পারছি না।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমছিল। গত বৃহস্পতিবার সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সোমবার থেকে তা আবার কমে যায়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাবয়ার কারণে নতুন আসা এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করা সম্ভব হয়নি। এতে সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক সরবরাহ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিনের মোট গ্যাস সরবরাহ ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসে। ফলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ (কেজিডিসিএল) বিতরণকারী কোম্পানিগুলো সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

গ্যাসের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে যেখানে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট, সেখানে রাতে চাহিদা কিছুটা কমলেও ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেলে আমাদের পক্ষেও কেন্দ্রগুলোতে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।’

কবে কাটবে সংকট?

গ্যাস সংকটে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে কেজিডিসিএল। প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, ‘মহেশখালী থেকে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ উন্নতি সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগেই নগরবাসীকে জানিয়েছি।’

প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, শুক্রবার মধ্যরাতেই মহেশখালীর টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের মধ্যেই বন্দরনগরীর এই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।




ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও
ছবি সংগৃহীত।

লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের বিপুল এই অর্থের ‘ঘাটতি’ পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় এ মামলা করেন।

এতে কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।
এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে।

পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। কামরুল হোসেন ঘাটতির বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। এতে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকতো। জাফরুল্লাহ তানভীর দেখাশোনা করার শর্তে ওই অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।

মামলার আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি। ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে যান’।

তিনি বলেন, রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে কোতোয়ালী থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে পুলিশ আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। আমার ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করতো। ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন মাঝেমধ্যে তাকে লাভে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ নিয়ে নিতেন। কিন্তু ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আমার ছেলের কাছে দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো প্রমাণ আমাদের দেখানো হয়নি। ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি’।

চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায় দেখেই বিষয়টি শেষ করা যাবে না। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।