শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলার জারুলছড়ি পাড়া ও আরিফ পাড়ায় শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী এবং সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ৬৯ ব্রিগেডের অধীন ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আওতাধীন বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোনের উদ্যোগে এবং সুংসুং পাড়া আর্মি ক্যাম্পের অধীনস্থ থিন্দলতে ৎল্যাং টিওবির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারুলছড়ি পাড়া ও আরিফ পাড়ার বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরে এসে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিশুদের শিক্ষিত ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জারুলছড়ি পাড়ার ধর্মযাজকের কাছে একটি সোলার ব্যাটারি ও একটি সোলার প্যানেল হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি আরিফ পাড়ার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হোয়াইট বোর্ড, ২০টি খাতা, ২০টি কাঠ পেন্সিল, ২০টি কলম, ২০টি রাবার, তিনটি হোয়াইট বোর্ড মার্কার এবং একটি ডাস্টার বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।

সহায়তা গ্রহণ শেষে জারুলছড়ি পাড়ার ধর্মযাজক মেন পং মুরুং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সেনাবাহিনী আছে বলেই আমরা পাহাড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারছি। তারা সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল এবং এখনও আছে।”

বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোনের সাবজোন কমান্ডার বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, বম জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা, চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তাভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”