শিক্ষার আলো ছড়াতে বেতছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেএস মংয়ের সহায়তা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিক্ষার আলো ছড়াতে বেতছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেএস মংয়ের সহায়তা

শিক্ষার আলো ছড়াতে বেতছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেএস মংয়ের সহায়তা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম তারাছা ইউনিয়নে অবস্থিত বেতছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৪টায় স্কুল পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এস মং বলেন, "একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষা ক্ষেত্রে সকলের আন্তরিকতা প্রয়োজন, কারণ শিক্ষাই সমাজের মূল ভিত্তি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্গম এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করে যারা সমাজ বদলে অবদান রাখছেন, তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানো হবে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।


পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথি আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ও শিক্ষার মান উন্নয়নে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন:

খাদ্য সহায়তা: আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ।

অবকাঠামো সংস্কার: বর্তমান হলরুমটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি।

প্রযুক্তিগত সহায়তা: শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রদানের আশ্বাস।


একই সফরে তিনি রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিংঞামুখ পাড়া বৌদ্ধ বিহারের প্রয়াত বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ভদন্ত কেসোলা থেরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের জন্য পাড়াপ্রধানের (কারবারি) হাতে নগদ ১ লক্ষ টাকার অনুদান তুলে দেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

হ্রাথোয়াইহ্রী মারমা: প্রতিষ্ঠাতা, বেতছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

উনু মং: চেয়ারম্যান, তারাছা ইউনিয়ন পরিষদ।

উছো মং মারমা: সাধারণ সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা।

উচসিং মারমা: দপ্তর সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাইফুল আলম, প্রকৃতি বড়ুয়া, সাংবাদিক বাবুল খানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধিতে এই সফর ও অনুদান বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”