শর্ত মেনে রেহাই, কিন্তু কাঠ পাচারের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে মাসুদ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

শর্ত মেনে রেহাই, কিন্তু কাঠ পাচারের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে মাসুদ

শর্ত মেনে রেহাই, কিন্তু কাঠ পাচারের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রুমা বাজারে কোরবানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত মাসুদ রানা মাসুমকে সামাজিক বিচার-সালিশের মাধ্যমে আটটি শর্তে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে মুসলিম সমাজের নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখে কোরবানির বিষয়কে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি রুমা বাজারের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলে স্থানীয় মুসলিম সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিচার-সালিশের আয়োজন করা হয়।

গত সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রুমা বাজারে অনুষ্ঠিত বিচার-সালিশে অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত মাসুদ রানা মাসুম তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করে লিখিত মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন। পরে আটটি শর্ত মেনে নেওয়ার ভিত্তিতে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বিচার-সালিশে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উ. নাইন্দিয়া ভিক্ষু, সাধন বড়ুয়া এবং উহ্লাচিং মারমা। তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখেন।

অভিযোগ আছে মাসুদ রানা মাসুম নিজেকে মাঝে মাঝে সাংবাদিক পরিচয়ে থাকেন আর মাঝে মাঝে কাঠ ব্যবসায়ীর সভাপতি নামে বিভিন্ন কাঠের গাড়ি থেকে চাঁদা উত্তোলন করেন।

এদিকে মাসুদ রানা মাসুমের বিরুদ্ধে নতুন করে আর্থিক অনিয়ম ও কাঠ পাচার সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নাম ব্যবহার করে রুমা-বান্দরবান রুটে কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি খরচের তালিকা দেখিয়ে প্রতি গাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করতেন। অথচ প্রকৃত খরচ ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পিপলু মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মাসুদ যে অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমাকে আগে অবহিত করা হয়নি। সে নিজ উদ্যোগে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সেগুন খামারপাড়া এলাকায় জমি কেনা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কাঠ ব্যবসায়ীদের একাংশ দাবি করেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত হওয়া জরুরি।

বিচার-সালিশে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা সমাজে বিভেদ সৃষ্টির মতো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তার কামাল, জসীম উদ্দিন, মীর কাশেম, আব্দুল মোতালেব, সেলিম উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা।

তবে মাসুদ রানা মাসুমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, আত্মসাৎ ও কাঠ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাটি ঘিরে জেলাও রুমা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব বজায় রাখা সময়ের দাবি।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”