লোহাগাড়ায় সেতু আছে, সড়ক নেই
লোহাগাড়ায় বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে জনদুর্ভোগ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও আজও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে নির্মাণের পর থেকেই সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুটি এখন কেবল প্রদর্শনীর বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবে এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে উপজেলা এলজিইডির বাস্তবায়নে বোয়ালিয়া খালের ওপর ফুট ওভার ব্রীজ নাম দিয়ে কালভার্ট/সেতুটি নির্মাণ করা হয়। মৌসুমী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত তার ব্যক্তিগত জমিতে যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যেই এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
তবে চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর থেকে সেতুটি সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে খালের দুই পাশে কংক্রিটের পিলার ও সেতুর কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন অচল সেতু।
আমিরাবাদ জলদাশ পাড়ার বাসিন্দা হরি লাল জলদাশ বলেন, বোয়ালিয়া খালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল আমাদের জলদাশ পাড়ার মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বলে। সেতু দেখে আমরা ভেবেছিলাম দুর্ভোগ কমবে। পরে জানতে পারি চেয়ারম্যান তার নিজস্ব জমিতে যাতায়াত সহজ করতে তড়িঘড়ি করে সেতুটি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু রাস্তা না থাকায় তিন বছরেও কেউ এটি ব্যবহার করতে পারেনি। সরকারি টাকার এমন অপচয় দেখে খুব কষ্ট হয়। বর্ষাকালে খালের পানিপ্রবাহেও বাধা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতু সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, এলজিইডি আইডিভুক্ত ছাড়া সড়কের কোন কাজ করে না। যদি উপজেলা পরিষদ বরাদ্দ দেন কাজের বাস্তবায়ন করা হয়। সড়ক বিহীন সেতুটি পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে স্থানীয়দের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়োজিদ বিন আখন্দ বলেন, আমিরাবাদ জলদাশ পাড়ার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য যদি সেতুটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোয়ালিয়া খালের ওপর সংযোগ সড়কবিহীন সেতুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






