লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ড্রেজারের থাবায় ধ্বংসের মুখে পরিবেশ
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ড্রেজারের থাবায় ধ্বংসের মুখে পরিবেশ

লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ড্রেজারের থাবায় ধ্বংসের মুখে পরিবেশ
ছবি সংগৃহীত।

“বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর টিনের চশমা পরে ঘুমাচ্ছে; উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু নিলাম দিয়ে তা বৈধ করতে ব্যস্ত।”

বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বালুখেকো চক্রের বেপরোয়া তাণ্ডবে জনজীবন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পাহাড় ও ছড়াবেষ্টিত এই অঞ্চলের নদী-নালা ও ছড়াগুলো এখন আর স্বাভাবিক প্রবাহে নেই। ড্রেজার ও সেলো মেশিনের বিকট শব্দ এবং মাটির অতল থেকে বালু চুষে নেওয়ার তাণ্ডবে চারপাশ বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর টিনের চশমা পরে ঘুমাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু নিলাম দিয়ে তা বৈধ করতে ব্যস্ত। মাঝখানে বিরান ভূমিতে রূপ নিচ্ছে লামার দুই শতাধিক বালু পয়েন্ট। ফসলের জমি, রাস্তাঘাট, নদীর পাড়, অবকাঠামো এবং ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশ ও জনগণকে দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উদাসীনতার সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট লাইল্যারমার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকার দু’পাশে একাধিক শ্যালু মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, লাইল্যারমার পাড়া স্কুলের দুই পাশের খুটাখালী ছড়া থেকে ৯টির মতো শক্তিশালী সেলো ও ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ছড়ার তলদেশ থেকে বালু চুষে নেওয়া হচ্ছে। উত্তোলিত বালু দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানান্তর করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আশপাশের কৃষিজমি ও পাড়ে।

এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তরা হলেন কাগজিখোলা এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মুবিনুল হক ও আজিজুল হক এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল বশরের ছেলে রিয়াদ। এ ছাড়া স্থানীয় আরও কয়েকটি ক্ষমতাধর গোষ্ঠী পেছন থেকে এদের ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ফকিরাখোলাসহ অংসাঝিরি থেকে ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অভিযুক্তরা হলেন—ইসমাইল, শাহজাহান, মুমিন, রাসেল, আবু, আরমান, হুমায়ুন, শুক্কুর, ধলা মিয়া ও সাইফুল মিস্ত্রীর সিন্ডিকেট।

ধ্বংসের মুখে জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো

অনিয়ন্ত্রিত ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে ছড়ার তলদেশ থেকে অতিমাত্রায় বালু তোলার ফলে ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। নদীভাঙন ও ছড়ার তলদেশ অতিরিক্ত গভীর হয়ে যাওয়ায় এবং দুই পাড়ের মাটি অলক্ষিতভাবে ধসে পড়ায় ছড়াতীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ি চরম ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে।

লাইল্যারমার পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় মেশিনের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পানির সঙ্গে বালি ও কাদা আশপাশের ফসলি জমিতে জমা হয়ে উর্বর মাটি নষ্ট করছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করতে না পেরে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নির্মাণাধীন রাস্তা, গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে ভেঙে পড়ছে।

লোক দেখানো নিলাম ও প্রশাসনের নীরবতা

অন্যদিকে লামা উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলিত এসব বালু জব্দ দেখিয়ে পরবর্তীতে লোক দেখানো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করছে। এর ফলে বালুখেকোরা সামান্য জরিমানা বা নিলামের মূল্য পরিশোধ করে কোটি টাকার অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থায়ী বৈধতা পেয়ে যাচ্ছে।

আইনের তোয়াক্কা না করে দিনদুপুরে পরিবেশ ধ্বংসের এই মহোৎসব চললেও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আকুতি শোনার কেউ নেই। নিরুপায় হয়ে বাইশারী ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ এবং সচেতন মহল দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কেবল বাইশারী বা লাইল্যারমার পাড়াই নয়, পুরো লামা উপজেলাজুড়ে প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ বালু পয়েন্ট সক্রিয় রয়েছে।

তারা অনতিবিলম্বে খুটাখালী ছড়াসহ আশপাশের সব পয়েন্টে যৌথ অভিযান পরিচালনা, ড্রেজার ও সেলো মেশিন জব্দ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসক, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি বিজিবির অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি বিজিবির অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল কর্তৃক মালিকবিহীন ১,০০,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
(৬ অক্টোবর মঙ্গলবার) সকালে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির টহল দল কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩৬ হতে আনুমানিক ৪.৫ কিঃ মিঃ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাস্টম নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ১,০০,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট এর ব্যাপারে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অধিনায়ক বলেন “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




পাহাড়-পর্বতে ট্যুরিস্টের ভালোলাগার গল্প: মেঘ-পাহাড়ের হাতছানি, ঝরনার কলতান আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

পাহাড়-পর্বতে ট্যুরিস্টের ভালোলাগার গল্প: মেঘ-পাহাড়ের হাতছানি, ঝরনার কলতান আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা
ছবি সংগৃহীত।

পাহাড়ের গায়ে মেঘের আলিঙ্গন, দূরে নীলচে পর্বতমালা, সবুজ বন আর পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ জলের ছন্দ—প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। শহরের ব্যস্ততা, যানজট ও কোলাহল পেছনে ফেলে পার্বত্য অঞ্চলে সবুজ পাহাড়ে এসে অনেকেরই মনে হয়, প্রকৃতির কাছে ফিরে পাওয়ার মতো আনন্দ আর কিছুতেই নেই—সাঙ্গু পত্রিকার প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই বলছিলেন আব্দুল মান্নান নামের এক পর্যটক।

বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে পাহাড়, মেঘ, ঝরনা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা। ভোরের আলো ফুটতেই পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের আনাগোনা, বিকেলে সূর্যের নরম আলো আর সন্ধ্যায় পাহাড়ের নীরবতা—সব মিলিয়ে পর্যটকদের মনে তৈরি হয় ভিন্ন এক অনুভূতি।

পর্যটক ইসমাইল হোসেন বলেন, পাহাড়ে এসে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখাই নয়, এখানকার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তাও ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তোলে। পাহাড়ি পথে হাঁটা, ঝরনার পানিতে পা ভেজানো কিংবা কোনো উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের বিস্তীর্ণ সবুজ দেখা—প্রতিটি মুহূর্তই যেন আলাদা গল্প হয়ে জমা হয় স্মৃতিতে।

বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। পাহাড়ের গায়ে নেমে আসে মেঘের আস্তরণ। কোথাও ঝরনা হয়ে নামে পাহাড়ি জলধারা, আবার কোথাও সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথে ছুটে চলে পর্যটকদের গাড়ি। প্রকৃতির এই রূপ মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করতেও ব্যস্ত থাকেন অনেকে।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে আসা রাকিব ইসলাম বলেন, শহরের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম। পাহাড়ে এসে মনে হচ্ছে, কয়েক দিনের জন্য অন্য এক জগতে চলে এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও দৃশ্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।

আরেক পর্যটক নাসিমা আক্তার বলেন, পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে চারপাশের মেঘ ও সবুজ প্রকৃতি দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ছবি তুলে রাখছি, কিন্তু বাস্তবে যে সৌন্দর্য দেখছি, ছবিতে তার পুরোটা ধরা যায় না।

রুমার ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির সভাপতি মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন শ পর্যটক পাহাড়ে আসেন। পাহাড়ি এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক। পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান রেখে পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তবে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বোতলসহ বিভিন্ন বর্জ্য পাহাড়ি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রকৃতিকে ভালোবেসে ভ্রমণ এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন হওয়ার তাগিদ রয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন স্থানে কটেজ, যাত্রীছাউনি ও রেস্টুরেন্টসহ নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাহাড় শুধু ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একধরনের নীরব সম্পর্ক তৈরির স্থান। পাহাড়ের নীরবতা, মেঘের ভেলা, ঝরনার শব্দ আর সবুজের মায়া অনেক পর্যটকের মনে তৈরি করে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি। তাই ছুটির দিনে কিংবা অবসর পেলেই অনেকে আবারও ফিরে আসতে চান পাহাড়ের সেই চেনা-অচেনা সৌন্দর্যের কাছে।

প্রকৃতির এই টানেই পাহাড়ে আসা পর্যটকদের মুখে শোনা যায় একটাই কথা—পাহাড়ে এলে মন ভালো হয়ে যায়। আর সেই ভালোলাগার গল্পই বারবার মানুষকে টেনে নেয় পাহাড়-পর্বতের পথে।




থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫

থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে ডিমপাহাড়-টিন্দুমুখ সড়কে একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকাল ৩.৪৫ টা সময় ডিমপাহাড় হতে টেন্ডুমুখ নৌঘাটের দিকে নামার সময় টেন্ডুমুখ নৌ চেকপোস্ট হতে আনুমানিক ৬০০ মিটার দূরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে ০২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং ০৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস এর নেতৃত্বে অধীনস্থ টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে আহত ০৫ জনকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। নিহত দুজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানচি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। 
দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।