লামায় স্মরণকালের বন্যায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: পুকুর ও ফিশারিতে ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

লামায় স্মরণকালের বন্যায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: পুকুর ও ফিশারিতে ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি টাকা

লামায় স্মরণকালের বন্যায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: পুকুর ও ফিশারিতে ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি টাকা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে ভেসে গেছে উপজেলার শত শত পুকুর ও ফিশারির মাছ। এতে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মৎস্য খাতে ১৪৩টি পুকুর ও প্রকল্প বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত সর্বমোট প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।​মাছ ও পোনা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুর ও ফিশারির পাড় এবং অবকাঠামো ভেঙে চাষিরা এখন দিশেহারা।

​প্রায় ৩৭.৮২ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। প্রায় ৩৭ লক্ষ পিস বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ভেসে গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৩ লক্ষ টাকা।
​পুকুরগুলোতে বাজারজাতকরণের উপযোগী মজুতকৃত মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৯৭.৫৮ লক্ষ টাকা।
ঢলের তোড়ে পুকুরের পাড় ভাঙন এবং ঘেরের নেট-পাটা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অবকাঠামোগত ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা।সব মিলিয়ে মৎস্য খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা।

​উপজেলার বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লামা পৌরসভা, লামা সদর ইউনিয়ন, রূপসীপাড়া, সরই এবং ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নে। এসব এলাকার অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে একাকার হয়ে যায়, যার ফলে চাষিরা কোনো মাছই রক্ষা করতে পারেননি।

​উপজেলার বেশ কিছু বৃহৎ এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল মৎস্য প্রকল্প এবারের বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রজেক্টগুলো হলো মেসার্স আলম এগ্রো ফার্ম (লামা সদর)সিদ্দিকুল আলম ডনের এই বৃহৎ এগ্রো ফার্মের মৎস্য প্রকল্পটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রকল্পের সব মাছ ভেসে গেছে।
লামা ফিসারী কমপ্লেক্স (হরিণঝিরি, পৌরসভা) আমির হোসেনের মালিকানাধীন এই ফিশারি কমপ্লেক্সটি লামা পৌরসভার অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। আকস্মিক ঢলে এই কমপ্লেক্সের লাখ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে।
হারেছ মাল্টি ফার্ম (ধুইল্যাপাড়া,সরই) ধুইল্যাপাড়ার এই মাল্টি ফার্মটির মৎস্য ঘেরগুলোও বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে, যার ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই উদ্যোক্তা।

​চাষিদের আর্তনাদ ও সরকারি সহায়তার দাবিতে ​স্থানীয় মৎস্য চাষিরা জানান, অনেকেই ব্যাংক ঋণ ও বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের বন্যায় তাদের সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে। অবকাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে পোনা ছাড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য এখন অনেকেরই নেই।
​ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং মৎস্য খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের নিকট দ্রুত আপদকালীন আর্থিক প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

লামা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামান জানান,প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।​মাছ ও পোনা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুর ও ফিশারির পাড় এবং অবকাঠামো ভেঙে চাষিরা এখন দিশেহারা। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের জন্য যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তবে ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে সহযোগিতা করা হবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”