লামায় সরকারি মাতামুহুরী কলেজের জমি দখলের প্রতিবাদে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম ও রাজপথ অবরোধের ঘোষণা

বান্দরবানের লামা উপজেলার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'সরকারি মাতামুহুরী কলেজ'-এর প্রায় দুই একর সরকারি জমি জবরদখলের প্রতিবাদে এবং চিহ্নিত দখলদার ও ভূমিদস্যু সুমনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি উদ্ধার না হলে আগামী ২৬ জুলাই থেকে পুরো লামা উপজেলা অচল করে দেওয়াসহ অনির্দিষ্টকালের কড়া আলটিমেটামের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
সমাবেশে বক্তারা জানান, ৩০৫ নম্বর গজারিয়া মৌজার সাপমারা ঝিরি সীমানার ১৭০ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত সরকারি মাতামুহুরী কলেজের মালিকানাধীন ২ একর জায়গা দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন স্থানীয় মো. সুমন (ওরফে চাঁন্দা সুমন/স্যান্ডেল সুমন)। বক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে উক্ত চিহ্নিত ভূমিদস্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি গ্রাস করে রেখেছে।
সমাবেশ শেষে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়: ১. অবিলম্বে উচ্ছেদ ও দখলমুক্তকরণ: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কলেজের জবরদখলকৃত দুই একর জমি থেকে দখলদার সুমনকে উচ্ছেদ করে কলেজের নিয়ন্ত্রণে বুঝিয়ে দেওয়া। ২. লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে বাদী হয়ে চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু মো. সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারের দাবি। ৩. উদ্ধারকৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পূর্বের ন্যায় কলেজের লোগো সংবলিত সাইনবোর্ড টানানো। ৪. আন্দোলনের বিপক্ষে বা শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী মাফিয়া ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভিত্তিহীন পাল্টা মামলা খারিজ করা। ৫. জমি দখলের সময় অভিযোগ পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শিক্ষার্থীদের সামনে জবাবদিহি করা।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়া না হলে তাঁরা নিম্নলিখিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধ্য হবেন:
কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সকল ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ করা।
অধ্যক্ষকে তাঁর বাসভবনে অবরুদ্ধ করা এবং অধ্যাপকদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
লামা-চকরিয়া প্রধান সড়কসহ উপজেলার সকল প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা।
প্রশাসনিক কার্যালয় ঘেরাও করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন পালন।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।
উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও কর্মসূচিতে সরকারি মাতামুহুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মোনায়েম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামসুল আলম, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম খান, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইয়াসির আরাফাত, বাংলা বিভাগের প্রভাষক আকতার কামাল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মনজুর-ই-ইলাহী এবং দর্শন বিভাগের প্রভাষক সুমাইয়া আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করে এতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে কলেজের সভাপতি মো. তুষার, সিনিয়র সহসভাপতি মো. হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন ও সদস্য মো. রাকিবুল ইসলামসহ ছাত্রনেতা ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।







