লামায় বন্যাদুর্গতদের পাশে পৌর প্রশাসক মো.মঈন উদ্দিন, প্রশংসায় ভাসছেন সর্বস্তরে
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

লামায় বন্যাদুর্গতদের পাশে পৌর প্রশাসক মো.মঈন উদ্দিন, প্রশংসায় ভাসছেন সর্বস্তরে

লামায় বন্যাদুর্গতদের পাশে পৌর প্রশাসক মো.মঈন উদ্দিন, প্রশংসায় ভাসছেন সর্বস্তরে
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক সময়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে বান্দরবানের লামা উপজেলা ও পৌর এলাকা। চারদিকে থৈ থৈ পানি, পানিবন্দি হাজারো মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিল পুরো জনপদ। দুর্যোগের এমন কঠিন মুহূর্তে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন।

উদ্ধার কাজ থেকে শুরু করে ত্রাণ বিতরণ এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে তাঁর দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে যখন পুরো লামা শহর ও আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হতে শুরু করে, ঠিক তখনই পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পানিবন্দি অসহায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামানো হয় ৬টি উদ্ধারকারী নৌকা। পৌর প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। তাঁর সরাসরি নির্দেশনায় শত শত পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। শুধু উদ্ধার করাই নয়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ সুপেয় পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি দিনরাত কাজ করেন।

​দুর্যোগের পুরোটা সময় লামা পৌরসভার ১নং থেকে ৯নং ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণায় কোণায় ছুটে গেছেন পৌর প্রশাসক। পৌরসভার নয়াপাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া, হাসপাতাল পাড়া, কলিঙ্গাবিল, ছাগলখাইয়া, হরিণঝিরি ও শিলেরতুয়া সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে দুর্গতদের হাতে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এভাবে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ইতিবাচক ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

​ভয়াবহ এই বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। দুর্যোগের এই সংকটকালীন সময়ে ব্যবসায়ীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান পৌর প্রশাসক। লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যায় যখন তারা সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা, তখন প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি, সান্ত্বনা এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস তাঁদের মনে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আস্থা জুগিয়েছে।

​বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর লামা বাজার জুড়ে জমে ওঠে টন টন কাঁদা মাটি আর উজান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা। এতে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চলাফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পৌর প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের নির্দেশে অতি দ্রুত বাজার পরিষ্কারের বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজারের সমস্ত কাঁদা ও আবর্জনা অপসারণ করে লামা বাজারের চিরচেনা সৌন্দর্য ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।
এ জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পৌর প্রশাসকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

​জনজীবন স্বাভাবিক করতে সমন্বিত উদ্যোগ
​বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে পৌর প্রশাসন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ মেরামত এবং ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে বিদ্যুৎ ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মো. মঈন উদ্দিন।

​পৌর প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন,"লামা পৌরসভার প্রতিটি নাগরিক আমার নিজের পরিবারের সদস্যের মতো। দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে থাকা শুধু আমার পেশাগত দায়িত্বই নয়, এটি আমার নৈতিক কর্তব্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে পৌর প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। যতদিন না পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।"

​লামার স্থানীয় সচেতন ও সুশীল মহলের মতে, দুর্যোগকালে প্রশাসনের এমন দ্রুত, সক্রিয় ও মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সরকারের প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যেভাবে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে সংকট মোকাবিলা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”