লামায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী মৌজায় পৈতৃক ও নিজস্ব খরিদা সম্পত্তি জবরদখল, জালিয়াতি এবং টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী।
ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ মোসলিমা বেগম (পিতা: মৃত ইছহাক, ফাঁসিয়াখালী মৌজা, হোল্ডিং নম্বর- আর/১২৫১) তাঁর বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই জবরদখল ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে পিতা ইছহাকের মৃত্যুর পর বড় ভাই হিসেবে গিয়াস উদ্দিন সমস্ত পারিবারিক সম্পত্তির দেখাশোনা শুরু করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মোসলিমা বেগম ২০২৪ সালে ওয়ারিশ সূত্রে তাঁর প্রাপ্য অংশ এবং নিজের নামের ৪.০০ একর জমি দাবি করলে পারিবারিক কলহের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মোসলিমা বেগমের নিজের নামের উক্ত ৪.০০ একর জমিটি তাঁর বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ পারিবারিক এক বৈঠকে মোসলিমা বেগমসহ তাঁর তিন ভাই-বোন (শাহনেওয়াজ খানম, ছরওয়ার আলম ও তানভীর ইসলাম রানা) প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪ একর সম্পত্তি বড় ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া এবং তার বিনিময়ে বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন মোসলিমা বেগমকে ৬৩ লাখ টাকা প্রদান করবেন বলে ৪৫ দিনের (১ মাস ১৫ দিন) একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর টাকার জন্য যোগাযোগ করা হলে গিয়াস উদ্দিন নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে চকরিয়া ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন শিপু বিষয়টি আপস-মীমাংসার আশ্বাস দিলেও দুই বছরেও কোনো সমাধান করেননি, বরং অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী মোসলিমা বেগম জানান, সম্পত্তির সমস্ত দলিল ও খাজনা তাঁর নিজের নামে থাকায় তিনি তৎকালীন লামা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। শুনানিতে মোসলিমা বেগম ও তাঁর দুই ছেলে এবং প্রতিপক্ষ গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা (শাহনেওয়াজ খানম, ছরওয়ার আলম, তানভীর হোসেন রানা) উপস্থিত হয়ে এটি পারিবারিক বিষয় দাবি করে পুনরায় ২-৩ মাসের সময় চেয়ে নেন এবং পূর্বের ৬৩ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসিল্যান্ডকে আশ্বাস দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সার্ভেয়ার (আমিন) এবং লামার এক সাংবাদিক।
বর্তমানে এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোসলিমা বেগমের এক ছেলে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হওয়ায় এবং কাঙ্ক্ষিত জমিটি না পাওয়ায় তারা আরও বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থকষ্টে ভুগছেন জানিয়ে মোসলিমা বেগম বলেন, পাওনা টাকা ও পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত পেতে এবং মিথ্যা হয়রানি থেকে বাঁচতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ চকরিয়া ও লামা থানা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।
গিয়াস উদ্দিনের ছোট বোন শাহনেওয়াজ খানম বলেন, “পারিবারিক বৈঠকে জমি বিক্রি করে মোসলিমাকে ৬৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, আপনারা বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন।”
অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন জানান, “আমরা জমি বিক্রির চেষ্টা করছি; জমি বিক্রি করতে পারলে টাকা দিয়ে দেবো। কিছুদিন আগেও ভাগিনা জিসান বিদেশ যাওয়ার সময় ৩ লাখ টাকা দিয়েছি।”









