লামায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

লামায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী

লামায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী মৌজায় পৈতৃক ও নিজস্ব খরিদা সম্পত্তি জবরদখল, জালিয়াতি এবং টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ মোসলিমা বেগম (পিতা: মৃত ইছহাক, ফাঁসিয়াখালী মৌজা, হোল্ডিং নম্বর- আর/১২৫১) তাঁর বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই জবরদখল ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে পিতা ইছহাকের মৃত্যুর পর বড় ভাই হিসেবে গিয়াস উদ্দিন সমস্ত পারিবারিক সম্পত্তির দেখাশোনা শুরু করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মোসলিমা বেগম ২০২৪ সালে ওয়ারিশ সূত্রে তাঁর প্রাপ্য অংশ এবং নিজের নামের ৪.০০ একর জমি দাবি করলে পারিবারিক কলহের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মোসলিমা বেগমের নিজের নামের উক্ত ৪.০০ একর জমিটি তাঁর বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ পারিবারিক এক বৈঠকে মোসলিমা বেগমসহ তাঁর তিন ভাই-বোন (শাহনেওয়াজ খানম, ছরওয়ার আলম ও তানভীর ইসলাম রানা) প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪ একর সম্পত্তি বড় ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া এবং তার বিনিময়ে বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন মোসলিমা বেগমকে ৬৩ লাখ টাকা প্রদান করবেন বলে ৪৫ দিনের (১ মাস ১৫ দিন) একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর টাকার জন্য যোগাযোগ করা হলে গিয়াস উদ্দিন নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে চকরিয়া ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন শিপু বিষয়টি আপস-মীমাংসার আশ্বাস দিলেও দুই বছরেও কোনো সমাধান করেননি, বরং অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী মোসলিমা বেগম জানান, সম্পত্তির সমস্ত দলিল ও খাজনা তাঁর নিজের নামে থাকায় তিনি তৎকালীন লামা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। শুনানিতে মোসলিমা বেগম ও তাঁর দুই ছেলে এবং প্রতিপক্ষ গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা (শাহনেওয়াজ খানম, ছরওয়ার আলম, তানভীর হোসেন রানা) উপস্থিত হয়ে এটি পারিবারিক বিষয় দাবি করে পুনরায় ২-৩ মাসের সময় চেয়ে নেন এবং পূর্বের ৬৩ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসিল্যান্ডকে আশ্বাস দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সার্ভেয়ার (আমিন) এবং লামার এক সাংবাদিক।

বর্তমানে এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোসলিমা বেগমের এক ছেলে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হওয়ায় এবং কাঙ্ক্ষিত জমিটি না পাওয়ায় তারা আরও বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থকষ্টে ভুগছেন জানিয়ে মোসলিমা বেগম বলেন, পাওনা টাকা ও পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত পেতে এবং মিথ্যা হয়রানি থেকে বাঁচতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ চকরিয়া ও লামা থানা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।

গিয়াস উদ্দিনের ছোট বোন শাহনেওয়াজ খানম বলেন, “পারিবারিক বৈঠকে জমি বিক্রি করে মোসলিমাকে ৬৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, আপনারা বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন।”

অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন জানান, “আমরা জমি বিক্রির চেষ্টা করছি; জমি বিক্রি করতে পারলে টাকা দিয়ে দেবো। কিছুদিন আগেও ভাগিনা জিসান বিদেশ যাওয়ার সময় ৩ লাখ টাকা দিয়েছি।”




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”