লামায় নতুন ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড়
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

লামায় নতুন ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড়

লামায় নতুন ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড়
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় আইনের তোয়াক্কা না করে দুটি এস্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখাইল্ল্যা ঝিরি এলাকায় এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। ২০২৭ সালকে লক্ষ্য করে সেখানে নতুন একটি ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ একর পাহাড়ি জমি কেটে ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির সমতল ভূমিতে রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এই ঘটনায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতিসাধন এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে একই এলাকার মো. লোকমানের বিরুদ্ধে এই আবেদনটি দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. লোকমান বেআইনিভাবে ও গায়ের জোরে ২টি এস্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে দিনরাত পাহাড় কেটে সমতল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ এই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৃক্ষ, বনজ সম্পদ, ঝিরি ও জলধারা ধ্বংস করার ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগকারী মো. ওসমান গনি জানান, "আমরা যৌথভাবে এই পাহাড়ি জমিটি ক্রয় করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিবাদী প্রতারণামূলক ও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এস্কেভেটর দিয়ে পুরো পাহাড় কেটে সাবাড় করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর পাহাড় কাটা শেষ। এখানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে একটি নতুন ইটভাটা করার পাঁয়তারা চলছে।"

এলাকাবাসীর দাবি, যদি অবিলম্বে এই অবৈধ পাহাড় কাটা এবং ইটভাটা স্থাপনের প্রস্তুতি বন্ধ করা না হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই অঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তারা এই পরিবেশ ধ্বংসকারী চক্রের বিরুদ্ধে জরুরি তদন্তসাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত মো. লোকমান জানান, "ওসমান গনির সাথে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। প্রশাসন যদি সরেজমিনে সত্যতা পায়, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।"

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজিবের মোবাইলে কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”