লামায় ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলছে অতিরিক্ত পণ্যবাহী তামাকের ট্রাক, বাড়ছে দুর্ঘটনা!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

লামায় ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলছে অতিরিক্ত পণ্যবাহী তামাকের ট্রাক, বাড়ছে দুর্ঘটনা!

লামায় ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলছে অতিরিক্ত পণ্যবাহী তামাকের ট্রাক, বাড়ছে দুর্ঘটনা!
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা-আলীকদম উপজেলায় সড়ক পরিবহন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওভারলোড বা অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে প্রতিদিন চলছে শতাধিক তামাকবাহী ট্রাক। এসব ট্রাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তামাকজাত পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে উপরে যাত্রী বসিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগের শিথিলতা ও যথাযথ নজরদারির অভাবে সড়কে অনিয়ম এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন তামাকবোঝাই বিশাল সব ট্রাক যাতায়াত করছে। ট্রাকের বডির বাইরেও বিপজ্জনকভাবে মালামাল ঝুলে থাকে এবং তার ওপর বসে ভ্রমণ করছেন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঢালু সড়কে এ ধরনের ওভারলোডিং যেকোনো সময় ট্রাক উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাফিক বিভাগের সামনে দিয়ে এসব অনিয়ম ঘটলেও দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারির সুযোগে ট্রাক মালিক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকসহ অন্য চালকরা আইন অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন। বিশেষ করে তামাক মৌসুমে ট্রাকের এই দৌরাত্ম্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যা সাধারণ পথচারী ও ছোট যানবাহনের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ট্রাফিক পুলিশসহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে এসব অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই গাড়ি, লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, একটি পয়েন্টে গাড়িপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। তবে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী চালক, মালিক ও সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ উঠেছে, সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবহন খাতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
সড়কে চলাচলকারী ট্রাক, জিপ (চাঁদের গাড়ি), সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের দাবি, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরেও ট্রাফিক পুলিশ নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করছে। সামান্য অজুহাতে বড় অঙ্কের মামলার ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাসিক বা দৈনিক ভিত্তিতে গাড়িপ্রতি নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির নামে সময়ক্ষেপণ করায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানান, "সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করে যা আয় করি, তার একটা বড় অংশ ট্রাফিক পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। টাকা না দিলে গাড়ি ডাম্পিং করার হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এখন দিশেহারা।"

এদিকে উপজেলার কেয়াজুপাড়া এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদা আদায় ও গাড়ি আটকের প্রতিবাদে সরই ইউনিয়নের শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর থেকে কেয়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ট্রাফিক পুলিশের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। নিয়মিত মালামাল পরিবহনকারী ব্যবসায়ীরাও এই চাঁদাবাজির কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে লামা পৌরশহরে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী; যানজট নিরসনে নেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ভুক্তভোগীরা এই হয়রানি বন্ধে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে লামা ট্রাফিক ইনচার্জ আশিক রায়হানের ০১৮৭৫৭৪১৭৩৫ নম্বরে কল করলে তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”