লামায় জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধের উপর বর্বরোচিত হামলা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

লামায় জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধের উপর বর্বরোচিত হামলা

লামায় জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধের উপর বর্বরোচিত হামলা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের ওপর সংঘবদ্ধ  বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে মোজাফফর আহমদ (৫৩) নামের ব্যক্তিকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মৎস্য প্রজেক্টের পচা পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​গত শনিবার ( ০৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকায় ৫নং সরই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বটতলী পাড়া ছালামের দোকানের সামনে ইটের রাস্তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৪ জুন লামা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে যার (মামলা নম্বর: ৬)২০২৬।
​মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (FIR) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরই ইউনিয়নের বটতলী পাড়ার বাসিন্দা মোজাফফর আহমদের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে ভুক্তভোগী মোজাফফর আহমদ কেয়াঁজুপাড়া বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ওত পেতে থাকা আসামিরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ছুরি নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
​এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামি মোঃ ইসলাম (৬০) হত্যার উদ্দেশ্যে নির্দেশ প্রদান করলে ২নং আসামি মোঃ মুসা (৪৭) ও ৩নং আসামি মোঃ শামসুল আলম (৪৪) ভুক্তভোগীর দুই হাত চেপে ধরেন। এ সময় ১নং আসামি মোঃ ইসলাম তার হাতে থাকা বড় রাম দা-এর উল্টো পিঠ দিয়ে সজোরে আঘাত করে মোজাফফর আহমদের বাম হাতের হাড় ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে ৭ ও ৯নং আসামির হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পিঠে এলোপাতাড়ি কোপ মারলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর অন্যান্য আসামিরা লোহার রড ও লাথি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে। একপর্যায়ে ৫ ও ৬নং আসামি ভুক্তভোগীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দুই পায়ের রানে পিটিয়ে থেঁতলে দেয় এবং পার্শ্ববর্তী একটি মৎস্য প্রজেক্টের পচা পানিতে ফেলে দেয়।

​ঘটনার সময় হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর পকেট থেকে নগদ ৫,০০০/- টাকা, ২,৫০০/- টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন এবং ২০০/- টাকা মূল্যের একটি ছাতা ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীর বোন মিটু বেগম ঘটনা দেখে পার্শ্ববর্তী কেয়াঁজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

​আহত মোজাফফর আহমদকে প্রথমে দ্রুত লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (রেজি নং-১৫৫৯/৯) ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চমেক হাসপাতালের ২৬নং ওয়ার্ডে (রেজি নং-৫২৯৬২৩) গত ১১ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে থানায় এই এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

​লামা থানা পুলিশ দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। মামলায় মোট ৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন— মোঃ ইসলাম (৬০), মোঃ মুসা (৪৭), মোঃ শামসুল আলম (৪৪), মোঃ জাহেদুল ইসলাম (৩০), বদিউল আলম (৪৫), শাহেদ (২৬), সিরু আক্তার (৪৮), মোঃ আলমগীর (২৫) এবং নুরুচ্ছাফা বেগম (৪০)। তারা সবাই সরই ইউনিয়নের বটতলী পাড়ার বাসিন্দা।

​ সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর দীপন পাল জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”