লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যেন আরেক সলিমপুর: যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যেন আরেক সলিমপুর: যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়!

লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যেন আরেক সলিমপুর: যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়!
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারী এলাকাটি যেন এক অবিকল ‘সলিমপুর’, যেখানে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক পেছনের ফেতাইন্যাছড়া এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশাসন কার্যত অসহায় বা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এই এলাকায় অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের মহোৎসব, যার ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও চাষের জমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির একদম নাকের ডগায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় পুলিশ সেখানে অভিযানে যেতে ‘ভয় পায়’ কিংবা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। দুর্গম এবং অপরাধপ্রবণ চট্টগ্রামের ‘সলিমপুর’ অঞ্চলের মতোই কুমারী এলাকার এই ফেতাইন্যাছড়া অংশটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফেতাইন্যাছড়া খাল ও এর আশপাশের কৃষিজমি থেকে শক্তিশালী ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ডাম্পার বোঝাই করে এই বালু পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও কৃষিজমিতে বড় বড় ধস নেমেছে। এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত একটি পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সরওয়ার আলম, শ্রমিক দল সভাপতি নাজিম উদ্দীন, কুমারী এলাকার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন এবং কুমারী তৃণমূল যুবদল নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালুর ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছড়া ও ফসলি জমির বুক চিরে বালু লুটে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফাঁড়ির পুলিশ সব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পুলিশ যেখানে অপরাধ দমনে কাজ করার কথা, সেখানে ফাঁড়ির পেছনে এই অবৈধ বালুর মেলা চললেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কুমারী এলাকা এখন অপরাধীদের জন্য আরেক সলিমপুর হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) জামিল আহমেদকে ফোন দিলে তিনি 'আসছি-যাচ্ছি' বলে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পুকুর খননের অনুমতি রয়েছে বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোহাম্মদ নুর উদ্দিন জানান, "আমরা কুমারী এলাকার ভয়ংকর এই ফেতাইন্যাছড়া পরিদর্শন করেছি। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।"




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”