লামায় দুর্গম অনাথ আশ্রমে ২৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

লামায় দুর্গম অনাথ আশ্রমে ২৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ

লামায় দুর্গম অনাথ আশ্রমে ২৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘সাঙ্গু অনাথ সংঘ’-এ ২৪ জন শিক্ষার্থীর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তথ্য পাওয়ার পরপরই আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, অনাথ আশ্রমের শিশুদের অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিমের নির্দেশনায় রবিবার (১০ মে) সকালে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধপত্র নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুর্গম এলাকায় পৌঁছায়।

মেডিকেল টিমের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ কাউসার ইকরাম। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ইমরান, স্বাস্থ্য সহকারী রুবেল দাশ, জাহিদ হাসান শাকিল এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহমেদ ভুঁইয়া।

আশ্রম পরিদর্শনকালে টিমটি আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। এ সময় গুরুতর অসুস্থ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সংক্রমণ রোধে আশ্রম কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

জরুরি সেবা কার্যক্রম চলাকালীন অনাথ সংঘের পরিচালক অংক্য মং মার্মাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্য টিমকে সহযোগিতা করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুরো বিষয়ের ওপর স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, "খবর পাওয়া মাত্রই আমরা মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা অসুস্থ শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং হামের সংক্রমণ রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।"




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”