লক্ষ্মীছড়ি সেনাবাহিনী পরিচালিত চিকিৎসা প্রশিক্ষণার্থী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীছড়ি সেনাবাহিনী পরিচালিত চিকিৎসা প্রশিক্ষণার্থী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীছড়ি সেনাবাহিনী পরিচালিত চিকিৎসা প্রশিক্ষণার্থী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা রিজিয়নের লক্ষ্মীছড়ি জোন সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুল্যাতলী এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি লক্ষ্মীছড়ি সেনাবাহিনী পরিচালিত প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণগ্রহণকারী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এই প্রথমবারের মতো মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হলো।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ও জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্মীছড়ি জোন সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও উপকরণ প্রদান করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত প্রশিক্ষণার্থী এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যৌথভাবে এই সেবা পরিচালনা করেন। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাতে হাতেকলমে সেবা প্রদান করতেই সেনাবাহিনীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। লক্ষ্মীছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন সাব্বির ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ড. ফৌজিয়া সুলতান লিজা চিকিৎসাসেবায় সহায়তা দেন।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা বলেন, "আমরা আগে দেখতাম সেনাবাহিনী ও উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক মিলে চিকিৎসাসেবা দিতেন, কিন্তু এবারই দেখলাম স্থানীয় ছেলেমেয়ে—যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তাদের দিয়ে এই চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হলো। এতে তাদের সাহস ও উৎসাহ আরও বেড়ে গেল বলে আমি মনে করি। ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় কোনো মানুষ অসুস্থ হলে সদরে আনার দুশ্চিন্তা থাকবে না, প্রাথমিক চিকিৎসাটা তারাই দিতে পারবে।"

লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম জানান, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজ শেষ করা হয়নি, বরং যারা শিখেছে তারা কতটুকু সেবা দিতে পারবে, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি এবং দুর্গম পাহাড়ের অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্মার্টফোন ও টাকাসহ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহযোগী আটক

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্মার্টফোন ও টাকাসহ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহযোগী আটক
ছবি সংগৃহীত।

অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের এক আদিবাসী/ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (মগ) যুবককে আটক করেছে ১১ বিজিবির লেম্বুছড়ির জোয়ানরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবির অধীন লেম্বুছড়ি বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে টহল দলটি সীমান্ত পিলার ৫০ থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ উত্তরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘বাহির মাঠ’ নামক স্থান থেকে তাঁকে আটক করে।

আটক যুবকের নাম জোজোবা (২৭)। তিনি মিয়ানমারের বুথিডং জেলার তেপাডং গ্রামের জোমই থংয়ের ছেলে।

স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে যাচ্ছিলেন। নিজেকে তিনি তাদের একান্ত সহযোগী বলেও দাবি করেন।

এদিকে বিজিবি সূত্র জানায়, আটক মিয়ানমার যুবকের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৫৫০ টাকা ও ১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, ১১ বিজিবি কর্তৃক ধৃত মিয়ানমারের ওই নাগরিককে টাকা ও মোবাইল ফোনসহ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় মামলা হয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ে আলোচনা

নাইক্ষ্যংছড়িতে আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ে আলোচনা
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ, যানবাহন চলাচল ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমাত জাহান ইতু, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রতিনিধি পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদ, উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফাইল আহমদ, বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি, বান্দরবান জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি ও উপজেলা পেশাজীবী ফোরামের সভাপতি রফিক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন ও আব্দুল আলীম বাহাদুর, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও প্রেস ক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক সাংবাদিক আব্দুল হামিদ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম কাজল, ফুটবলার ও ছাত্রদল নেতা উসাই মং মারমাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবি ও বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ২১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ পুরিয়া গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় রুহুল আমিন (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১টার দিকে বাইশারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাশের খোলা মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মনজুর আহসানের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. শওকত জামিলসহ পুলিশের একটি দল নৈশ টহল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক বিক্রির সময় রুহুল আমিনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা, ১০ পুরিয়া গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার রুহুল আমিন উত্তর বাইশারী গ্রামের মোশাররফ আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় সহযোগীদের নিয়ে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিলেন। এর আগেও মাদকসহ তাকে দুইবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. মনজুর আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ পলাতক সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।