রামুর ফতেখাঁরকুলে সরকারি খাসজমি দখল করে প্লট বিক্রির অভিযোগ!

রামুর ফতেখাঁরকুলের ফকিরা বাজারসংলগ্ন বাঁকখালী নদীর সরকারি খাসজমি দখল করে প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর ভাই নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
বাঁকখালী নদী ও রামু ফকিরা বাজারের সাথে সংযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ বড় রাস্তাটি এখন ছোট একটি গলিতে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ বছরের প্রাচীন এই রাস্তাটি দিয়ে শাকসবজি থেকে শুরু করে নানা পণ্য বাজারে আনা-নেওয়া হতো। একই সাথে বাঁকখালী নদীতে দুর্গা বিসর্জন ও জাহাজ ভাসা উৎসবসহ অনেক কাজে রাস্তাটি দিয়ে মানুষের যাতায়াত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ায় সড়কটি এখন প্রায় বন্ধের পথে। একই সাথে পানি নিষ্কাশনের নালা ভরাট করে দখলে নেওয়ায় বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও চরম ঝুঁকি এবং দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, দখল করা এসব জায়গা ছোট ছোট প্লট বানিয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন ও নাজিম উদ্দিন।
এ ছাড়া বাঁকখালী নদী এবং বালুমহালের ইজারার জায়গাকে নিজেদের জমি বলে মালিকানা দাবি করছেন তাঁরা।
তাঁদের কাছ থেকে প্লট কিনে জমির মালিক পরিচয় দেওয়া গাছ ব্যবসায়ী জসিমের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি প্রথমে ফোন ধরেন, কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ভাই নাজিম উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে নদীপাড়ে অবৈধ দখল বেড়ে যাওয়ায় রামু ফকিরা বাজার বালুমহালের চৌহদ্দির সীমানার আয়তনও কমে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে চৌহদ্দির সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন ইজারাদারেরা।
ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বালু ও মাটি মহালের সরেজমিনে গিয়ে খাসজমিতে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা সেই জমিতে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
দেশের প্রচলিত ভূমি আইন অনুযায়ী, নদীর তলদেশ বা তীরবর্তী নদীর খাসজমি ক্রয়-বিক্রয় বা প্লট বাণিজ্য সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মহুরি জানান, আনীত অভিযোগগুলো সরেজমিনে গিয়ে যাচাইয়ের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে এবং নদীর জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।







