রামুর কচ্ছপিয়ায় জরুরী ভিত্তিতে বেড়ি বাঁধ নির্মাণের দাবী এলাকাবাসীর

রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড (চেয়ারম্যান পাড়া) বাঁকখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। প্রতিনিয়ত নদীর প্রচণ্ড স্রোতে বিলীন হচ্ছে মানুষের ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও মসজিদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই অঞ্চলের শত শত মানুষ এখন চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বর্ষা ও টানা বৃষ্টির কারণে বাঁকখালী নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভাঙ্গনের তীব্রতা অনেক বেশি। ইতোমধ্যে এলাকার একমাত্র যাতায়াতের ইটের রাস্তাটি নদীগর্ভে ধসে পড়তে শুরু করেছে। এভাবে ভাঙ্গন চলতে থাকলে দ্রুতই এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সামাজিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভাঙ্গন ঠেকাতে অতীতে স্থানীয়ভাবে কিছু সাময়িক চেষ্টা করা হলেও নদীর তীব্র স্রোতের সামনে তা সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিব আহমদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন চোখের সামনে আমাদের আবাদি জমি, ভিটেমাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা বহুবার বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই। বাঁকখালী নদীর এই ভয়াবহ রূপ থেকে কচ্ছপিয়ার মানুষকে রক্ষা করতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। আমি জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প নিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর আহ্বান জানাচ্ছি।"
নদী ভাঙ্গনের শিকার স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "বছরের পর বছর ধরে আমরা নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আসছি। ঘরবাড়ি হারিয়ে আমাদের অনেকে আজ পথে বসেছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—আমাদের বাঁধ দিয়ে বাঁচান।"
এদিকে এলাকার তরুণ ও ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি ‘কচ্ছপিয়া স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন’ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, "নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে যদি এখনই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হয়, তবে এই বর্ষা মৌসুমেই পুরো ১নং ওয়ার্ড গ্রামটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।"
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. নদী ভাঙ্গন রোধে অবিলম্বে আধুনিক ও টেকসই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা।
২. সর্বস্ব হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসন ও সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
৩. পানি উন্নয়ন বোর্ডের (WDB) জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কার্যকর মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা।
৪. ভাঙ্গন কবলিত এলাকাকে অনতিবিলম্বে 'বিশেষ দুর্যোগ এলাকা' ঘোষণা করা।
চেয়ারম্যান পাড়ার সর্বস্তরের জনতা দেশের নীতি-নির্ধারক মহলের কাছে জোর আবেদন জানিয়ে বলেন, এই মানবিক বিপর্যয় থেকে কচ্ছপিয়াকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার অংশ হিসেবে “ডেল্টা প্ল্যান ২১০০”-এর আওতায় এই অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত নদীভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ চিরতরে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।







