রামুতে কোরবানিকে ঘিরে ভিড় বাড়ছে কামারদের দোকানগুলোতে

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রামুতে জমে উঠেছে কামারদের দোকান। বছরের বেশিরভাগ সময় মন্দায় কাটলেও এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাদের জীবনে। দা, ছুরি, চাকু, বটি ও চাপাতি কিনতে এবং পুরোনো সরঞ্জাম ধার করাতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।
এমনিতে কামারদের দুর্দিন যাচ্ছিল, তবে কোরবানিকে সামনে রেখে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে তাদের মনে। বুধবার সকালে রামুর বিভিন্ন বাজার ঘুরে কামারদের দোকানে ব্যস্ততার এই দৃশ্য দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামুর ফকিরা বাজার ছাড়াও উপজেলার গর্জনিয়া বাজার, জোয়ারিয়ানালা বাজার, কলঘর বাজার, পানিরছড়া বাজার ও ঈদগড় বাজারের কামারদের দোকানে ভিড় করছে মানুষ। এসব দোকানে এখন শুধুই শোনা যাচ্ছে হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং আওয়াজ।
কামার অনিল দে বলেন, "সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এবারও ভালো বিক্রি হচ্ছে। মানুষ নতুন দা-ছুরি কিনছে, আবার অনেকেই পুরোনো জিনিস ধার করাচ্ছেন। তবে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় লাভ একটু কম হচ্ছে।"
আরেক দোকানদার বলেন, "লোহার দাম বেড়েছে, তারপরও ক্রেতাদের চাহিদা কমেনি। ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক অর্ডার পাচ্ছি। এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে।"
ব্যবসায়ী মনজুর বলেন, "কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। কামারদের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে। এতে তাদের ব্যবসায় নতুন প্রাণ ফিরেছে।"
ঈদগড় বাজারে দা ও চাকু কিনতে আসা ক্রেতা মনিরুজ্জামান বলেন, "কোরবানির কাজের জন্য ভালো মানের দা ও চাকু প্রয়োজন। তাই আগেভাগেই কিনতে এসেছি। স্থানীয় কামারদের তৈরি জিনিস টেকসই হওয়ায় এগুলোর চাহিদা বেশি।"
কামারদের আশা, কোরবানির মৌসুমকে ঘিরে যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তা তাদের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।







