রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।


গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।




তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি সংগৃহীত।

ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) যে কোনো একটি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা চাইবো ভবিষ্যতে আর কেউ যেন বিনা বিচারে বন্দি না থাকেন।কাউকে যেন এমন করে বিনা বিচারে আটক না রাখা হয়, সরকারের কাছে আমার এই দাবি।

শনিবার (৮ আগস্ট) ডিজিএফআইয়ের জেআইসি সেল নামক গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’ নামের এই টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভিন্নমতের অনেক ব্যক্তিকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এসব টর্চার সেলে আটকে রাখা হয়।

তিনি বলেন,ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব টর্চার সেলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ঘটনায় আরও যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর জেআইসি সেলের অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা দেওয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে এবং অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, যে কোনো বিচারকের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনগত বৈধতা রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেআইসি পরিদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সেখানে থাকা আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।




তনু হত্যা : সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

তনু হত্যা : সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত।

আলোচিত কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের (৫২) জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে যে জামিন দিয়েছিলেন, চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেছেন। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।”

আগামী রোববার বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আসবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে জামিন আবেদনের শুনানি শেষে গত ২ আগস্ট বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার ৬ মাসের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।

একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বেঞ্চ। সেই আদেশের পর ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বৃহস্পতিবার লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। আবেদনটি আজ আদালতের সম্পূরক কার্যতালিকায় ওঠে।

অ্যাটর্নি-জেনারেল কার্যালয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আবেদনটি শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। গ্রেপ্তারের পর সিআইডি তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি।




দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন
ছবি সংগৃহীত।

ভাঙচুরের দুই মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (চন্দন কুমার ধর) জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি নিয়ে রোববার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। জামিনের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।

এর আগে, ভাঙচুরের এ দুই মামলায় চিন্ময়কে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। এ মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীদের হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় পরে আলিফের বাবা হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায়ও আসামি চিন্ময়। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।