রামগড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সন্ত্রাসী আটক, একে-২২ অস্ত্র উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

রামগড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সন্ত্রাসী আটক, একে-২২ অস্ত্র উদ্ধার

রামগড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সন্ত্রাসী আটক, একে-২২ অস্ত্র উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে একটি বিশেষ সামরিক অভিযানে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ-এর এক কালেক্টরসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে একজন সশস্ত্র সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের অধীনস্থ জালিয়া পাড়া আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ রামগড় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় এই বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় সুইথোয়াই মারমা (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে ইউপিডিএফ কালেক্টর রনেল চাকমা ওরফে মন্টু চাকমাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটক রনেল চাকমা জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা। অভিযানে আরও আটক হন রাজু মারমা ওরফে সাচিং (১৮), যার বাড়ি রামগড় উপজেলার যৌথ খামার এলাকায়। আর গুলিবিদ্ধ সুইথোয়াই মারমার বাড়ি উপজেলার খেদা এলাকায়।

জানা যায়, অভিযানের সময় গোলাগুলিতে সুইথোয়াই মারমা ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। পরে সেনা সদস্যরা তাকে দ্রুত রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

অভিযানস্থল থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়, যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক বাকি দুই ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র রামগড় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় অভিযানে গেলে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এ সময় আরও ২ ইউপিডিএফ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১টি একে-২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”