রামগড়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের হুমকির অভিযোগ, থানায় অভিযোগের পরও মেলেনি প্রতিকার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

রামগড়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের হুমকির অভিযোগ, থানায় অভিযোগের পরও মেলেনি প্রতিকার

রামগড়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের হুমকির অভিযোগ, থানায় অভিযোগের পরও মেলেনি প্রতিকার
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রীকে দীর্ঘদিন অনুসরণ, মোবাইলে বিরক্ত করা এবং অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে রামগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গনিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে প্রায় দুই মাস ধরে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে অনুসরণ করে আসছিল বলে পরিবারের দাবি।
ছাত্রীর বড় ভাই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর থেকে ছাত্রীর বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেন। পরে ছাত্রী ফোন রিসিভ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পছন্দ করার কথা জানান এবং মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার সময় অনুসরণ করার দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি কথাবার্তা না বললে "তোমাকে তুলে নিয়ে যাব" বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ছাত্রীর ভাই ফোনে কথা বললে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রীকে বিয়ে করতে আগ্রহী বলে দাবি করেন এবং বিষয়টি বড় না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যথায় তুলে নেয়ার হুমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য দেন এবং "আপনি যা পারেন করেন" বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী চরম মানসিক আতঙ্কে রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতেও ভয় পাচ্ছে, ফলে তার লেখাপড়াও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। থানায় অভিযোগ দেয়ার পরেও বিভিন্ন সনয় ফোনে হুমকি পান। 
হুমকির ব্যাপারে ছাত্রীর ভাই রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজির আলম কে জানালে তিনি বলেন পুলিশ কি মাদ্রাসায় আসা যাওয়ায় নিরাপত্তা দেবো, নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব না।
লিখিত অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, কলের সময় এবং অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রামগড় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”