রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গ্রামবাসীর হামলা ও প্রশাসনের গুলিতে ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫

রামগড় উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া নামক স্থানে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনাকালে কৃষকের সেচ মেশিন নষ্ট করার অভিযোগে গ্রামবাসীর হামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাবার বুলেটে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চলাকালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, "অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় ১০০-১৫০ জন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কর্মচারী জয়নাল আবেদীন, আনসার সদস্য নূর মোহাম্মদ (৩৩), নূর মোহাম্মদ (২৫), খুরশেদ আলম, আবদুল ওহাব (৩১), ইউএনওর গাড়িচালক কামাল উদ্দিন, ইউএনও অফিসের কর্মচারী মো. জুয়েল ও মো. হারুন রশিদসহ ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গাড়ির কাচ পাথর মেরে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের প্রায় ২ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ১০টি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। বালু জব্দের সময় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালানোয় তা সম্ভব হয়নি। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অপরদিকে স্থানীয় কৃষক ওমর ফারুক বলেন, "ইউএনওর নেতৃত্বে অভিযানের সময় আমাদের তিনটি সেচ মেশিন ভেঙে নষ্ট করে দিলে গ্রামবাসী প্রতিবাদ করে। তখন ইউএনও গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালান। এতে নূর হোসেন (১৮), সুমন ত্রিপুরা (২২), আবুল হাসেম (৩০) ও আজাদ (২৫) নামে চার গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।"
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় দুষ্কৃতকারীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়।









