রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
ছবি সংগৃহীত।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে নতুন সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে রপ্তানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে বলে সরকার আশাবাদী।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল। তবে বছর শেষে মোট রপ্তানি হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বা মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে আগামী অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দুটি যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও সরকার গত বাজেটে রপ্তানিমুখী ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার সুফল বিদেশি ক্রেতারাও দ্রুত দেখতে পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তা সব মিলিয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে করের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের ওপর একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। তাই নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো প্রভাব পড়বে না। 




ফটিকছড়িতে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামীর কারাদণ্ড

ফটিকছড়িতে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামীর কারাদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় ওমায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক সায়মা আফরীন হীমা এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সি/আর মামলা নম্বর ৭১০/২০২৫ (ফটিকছড়ি)-এর বাদী তানজিন তারিন প্রিয়া ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তাঁর স্বামী ওমায়ের আহমদের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ওমায়ের আহমদ ফটিকছড়ি পৌরসভার পানারখিল এলাকার বাসিন্দা হাফেজ তোফায়েল আহমদের ছেলে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই ওমায়ের আহমদ যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ওমায়ের আহমদকে ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, “এ রায় যৌতুকের দাবিতে নারীর প্রতি নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”




চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স সল্ট কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মাহমুদুল হক (৪০) নামের আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত মাহমুদুল হক পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরনখাইন এলাকার মৃত খায়ের আহমদের ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই বছরের এক কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খালেদ বলেন, কারখানায় বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে বার্ন ইউনিটে এনে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এর আগে, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দগ্ধ শ্রমিক দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫)। এরপর গত ১৯ জুলাই বিকেল ৩টায় মারা যান নুর নবী হৃদয় (২৫) এবং একই দিন রাত সাড়ে ১০টায় মারা যান উজ্জ্বল দাশ (৫৩)।

উল্লেখ্য, বোয়ালখালীর ওই লবণ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছিলেন।




চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ জুলাই) রাতে নগরীর হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আফতাব মজুমদার এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সবুজ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলায় আফতাব মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথিসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় আফতাবের। একপর্যায়ে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার সুইট প্যালেস নামে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আফতাব। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের তাগিদ দিলে আফতাব তা অস্বীকার করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আফতাব আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।