যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, সেই সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনজন ছিনতাইকারী একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছে। ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। কিন্তু ধরা পড়ার পর দেখা গেল, তারা বিএনপির লোক।

তিনি বলেন, এরা গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিতে হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং আমরা সবাই বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিএনপিও এ কথা বলেছে, আমরাও বলেছি। ছয় মাস চলে গেল, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে?

তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ভেবেছিল, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। মানুষ আদালতে গেলে আর শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না, ন্যায়বিচার পাবে। সন্তানরা ভালো শিক্ষা পাবে, হাতে ভালো কাজ পাবে এবং তারা দেশ গড়বে। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু তার একটাও হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, তারা তখন বলেছিল, অনির্বাচিত সরকার যত দ্রুত বিদায় নেবে, দেশের তত মঙ্গল হবে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, অনির্বাচিত সরকার আমাদের জান্নাতে পাঠায়নি, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমন ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন?

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের বিল আসছে। গ্যাস দেবে না, কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। তেল পাই না, জ্বালানি পাই না। চারদিকে হাহাকার।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও হানাহানি চলছে। দলীয় আনুকূল্য ও প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাস ও চুরি-ছিনতাইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

লংমার্চের কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, তখন বিভিন্ন জায়গায় চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু প্রতিক্রিয়া আপনারা শুনতে পেয়েছেন। আমরা পরিষ্কার একটা কথা বলি– আমাদের এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন।

‘আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার জন্য আন্দোলন শুরু করিনি। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার মতো আমল করতে থাকে, তাহলে আমরা কি তাদের ইয়াসিন সূরা পড়ে পানি পড়া খাওয়াব? সেই পথেই সরকার হাঁটছে। আগের সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকারও একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ।’

জামায়াতের আমির বলেন, এখানে একজন মেয়র আছেন। উনার মেয়াদ কি এখনো আছে? উনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না? এখন শুনে যাবেন, উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। বলেন, এর নাম সুশাসন, না এর নাম ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন– আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।

চট্টগ্রামবাসী, এই তো একটা তাজা উদাহরণ দিলাম বাংলাদেশকে। এটা কি বৈষম্য নয়? তারা জাতির সামনে নির্বাচনী ইশতেহারে এবং তাদের সংস্কারের ৩১ দফায় ওয়াদা করেছিলেন যে, সমাজের সব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনা করবেন। এখন জায়গায় জায়গায় তারা যে প্রশাসক বসালেন, তারা কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি?

তিনি বলেন, আমাদের আজকের এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরের লংমার্চ এমন হবে না। এতগুলো মানুষ মারা গেল, তাদের দলের প্রচুর লোক মারা গেছে, গুম হয়েছে, আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত ও জীবনের প্রতি আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন, আমাদের সরকারটা শিশু সরকার। জনগণ কোন শিশুকে ভোট দিয়েছে? ২৫ বছরের আগে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারে না। উনারা কি ২৫ বছরের শিশু, নাকি প্রাপ্তবয়স্ক? জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে। আপনারা ওয়াদা করেছেন, কথা দিয়েছেন। এখন সেই সবকিছু আপনারা লঙ্ঘন করছেন।

তিনি বলেন, আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে– এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে, ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো এই দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে চাইনি। আমরা তো চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভেতরেই তার ফয়সালা হবে। আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা তাদের সঙ্গে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন, প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে না, ইনশাআল্লাহ। আমাদের বহু টোপ দেওয়া হয়েছে, লোক দেওয়া হয়েছে– এটা করব, ওটা করব। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, কোনো লোভের প্রতি আমরা চোখ খুলেও তাকাব না। জনগণের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আমরা তা আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এর আগে আমরা বিরতি দেব না, আমরা থামব না। এই লড়াই চলবে এবং বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ, বদলাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলানোর জন্য আপনারা কি তৈরি আছেন? তাহলে প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক, ইনশাআল্লাহ, আসবে। তবে এর সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ডাক আসবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা কনফিডেন্ট, আমরা আস্থাশীল– এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, অপরাধীরা হেরে যাবে, চাঁদাবাজরা হেরে যাবে, দুর্নীতিবাজরা হেরে যাবে, লুটেরা-লুটপাটকারীরা হেরে যাবে। যারা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তারা হেরে যাবে।
শফিকুর রহমান বলেন, আমি শুধু জানতে চাই- আপনারা ১৫ বছরের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান? ১৫ বছর যত হত্যাকাণ্ড, যত গুম হয়েছে, সবগুলোর বিচার চান? আপনারা ’২৪-এর আন্দোলনের বীর শহীদদের হত্যার বিচার চান? যারা তাদের গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে, সেই খুনিদের বিচার চান? বিডিআরের পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে যারা হত্যা করেছে, সেই খুনিদের বিচার চান? যারা আয়নাঘর তৈরি করেছিল, তাদের বিচার চান? জল্লাদদের বিচার চান?।আমরা কথা দিচ্ছি, সেই বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব। আর এই সরকার যদি এই বিচার না করে, তাহলে জনগণের সরকার কায়েমের মাধ্যমে সেই বিচার আমরা তুলে আনব, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন– বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম হামিদুর রহমান আজাদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন– এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির মুখপাত্র মাওলানা নাজমুল ইসলাম তালুকদার, গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে এ সমাবেশ চলে।

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে– অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।




দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় : জামায়াত আমির

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় : জামায়াত আমির
ছবি সংগৃহীত।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। আমরা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দায়িত্বহীন নই। আমাদেরও দায়িত্ব আছে।’

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মধুবাগ খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘৪–১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন, স্টক মার্কেট আজকে মাটির সঙ্গে মিশে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছেন। দিনে-দুপুরে, রাতে বিভিন্ন সময় যে সব অপকর্ম খোদ রাজধানীতে ঘটে চলেছে, যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। রাজধানী যেখানে সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান, এই অবস্থান থেকে বুঝা যায় সারাদেশের অবস্থাটা কী। খুবই উদ্বেগজনক!’

তিনি বলেন, ‘তিনদিন আগে ঢাকা এয়ারপোর্টে এয়ারপোর্টের সীমাহীন দুর্নীতি, অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদ করার জন্য ’৭১-এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দু’বারের সাবেক এমপি, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেশের মানুষ যাকে সবাই চেনে, তিনি প্রতিবাদ করেছেন। কেন তাকে তার লাগেজটি পাওয়ার জন্য তিন ঘণ্টার অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে?’

জামায়াত আমির বলেন, ‘ওমরাহ ফিরে আসার সময় একটু জমজমের পানি তিনি এবং তার সঙ্গীরা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। সেটা আলাদা করে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা জিজ্ঞেস করেছেন, এই জমজমের পানির মালিককে যে এটা পরিত্যক্ত? তিনি বলেছেন, আমি চোর নই। আরেকজনের কষ্টার্জিত এবং ট্যাক্স দিয়ে আনা পানি আমি নিয়ে যাব, এটা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। আমি পবিত্র পানি এনেছি আমার বিশ্বাসের জায়গা থেকে। আমার পানি দাও।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে বলা হয়েছে কনটেইনার মদিনায় রয়ে গেছে, আপলোড হয়নি। পরে যখন তিনি আরও গরম হয়েছেন, খোঁজ নিয়ে বলে যে কনটেইনার এসেছে, ভুলক্রমে আমরা দিতে পারিনি । বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই সময় এসেছেন একসঙ্গে। তাদের সঙ্গে অশুভ আচরণ করা হয়েছে। কোনো সূত্র ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘না তাকে উত্তেজিত করা হয়েছে, বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু কথা বলেছেন, কথা হয়তো অনেকের ভালো লাগেনি, নাও লাগতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, তা ১০০ বার সত্য।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি কথা বলেছেন ভুক্তভোগী প্যাসেঞ্জারদের জন্য। তিনি এই কথা বলেছেন আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছে, সেই সব খেটে খাওয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য। যাদের ব্যাগগুলো কেটে ব্যাগের ভেতর থেকে মূল্যবান সম্পদ সরিয়ে ফেলা হয়, চুরি করা হয়, তাদের জন্য কথা বলেছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘সেই অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তড়িঘড়ি করে এবং মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় বলা হয়েছে তিনি একজনকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেছেন। এটা ১০০ ভাগ নয়, ১০০০ ভাগ মিথ্যা। তিনি কারো গায়ে হাত তোলেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে যখন আমাদের আইনজীবী জানতে চেয়েছে, কাকে মেরেছেন, তার প্রমাণ দেখান। এয়ারপোর্ট তো সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার আওতায় আছে। আপনারা একটু দেখান। বলেছেন, না, ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা ছিল না। বুঝতে পারছেন বিষয়টা?’

জামায়াত আমির বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। তাকে অপমান করার জন্য হেলমেট পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য তার বুকের জ্যাকেট ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এখন আর আপনি শুধু জামায়াতে ইসলামের লোক, নেতা নন। এখন আপনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী, নির্যাতিত সব মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মামলা হওয়ার পরে আমি তাকে ফোন করেছিলাম, আমরা অ্যান্টিসিপেটরি বেল নেব কিনা। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছিলেন, আমি অন্যায় করিনি, কাজেই আমি আত্মসমর্পণ করব না। আমি চাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি চাই, প্রতিবাদের কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা বাংলাদেশের কোটি মানুষ এজন্য দেখেছেন।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা কেউ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। আমাদের এবং উনার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আল্লাহ তাও ক্ষমা করে দিন। এটাকে দেশবাসী হালকাভাবে নেবে না। তিনি যে প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন, তারা এটাকে হালকাভাবে নেবে না।’

সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, ‘একটা মেডিকেল সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন না। সেখানে রাস্তার অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হলো। তার সব সম্পদ উজাড় করা হলো। কারা এটা করলো? সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লো?’

তিনি বলেন, ‘সেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে-আবডালে থেকে, পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। একজনকে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু এই দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি। এখনো তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায়...আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে বোকা ভাববেন না, অন্ধ ভাববেন না। আপনাদের যদি একজনের দুটো করে চোখ থাকে, তাহলে জনগণের সূর্যের মতো দুটো চোখ আছে। পরিষ্কার করে সবকিছু দেখেন। আড়াল করতে পারবেন না। এখন আড়াল করার জমানা না। এখন মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু জনগণের দোরগোড়ায় হাতে-হাতে পৌঁছে যায়।’

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুর আগে হামেও অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। আমরা যখন সংসদে এ সব বিষয়ে কথা বলি, তখন এমনভাবে জবাব দেওয়া হয় যে বাংলাদেশ এখন উন্নত বিশ্বের একটা দেশে পরিণত হয়েছে এবং এখানে কোনো সমস্যা নেই।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুর জন্য ইতোমধ্যেই বিশ্বে প্রতিষেধক টিকা বাজারে আছে। এ বিষয়ে আমাদের সরকার কোনো উত্তর দেয়নি। ঠিক আছে, সরকারিভাবে যদি আনার তহবিল না থাকে, বেসরকারি রাস্তা ওপেন করে দেন। অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য একটা অস্ত্র তো হাতে পাবে। নিজেও আনবে না, বাজারও খুলে দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কি দেখে বসে থাকব? জামায়াতে ইসলামী বসে থাকার সংগঠন নয়। আপনারা দেখেছেন, দেশে যখনই যে দুর্যোগ এসেছে, এটা আল্লাহর ইচ্ছা, আমরা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি।’

‘ডেঙ্গুকে আমরা একটা মহামারির মতো দেখছি। এজন্য আমরা এই সপ্তাহটা ঘোষণা করেছি। ঘোষণা করে কিছু লিফলেট বিতরণ করাই আমাদের কাজ না। আমরা জনগণকে সচেতন করব এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা ভূমিকা ইনশাআল্লাহ পালন করব।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা উত্তরে যাকে আমরা মেয়র প্রার্থী হিসেবে জনগণের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে প্রেজেন্ট করছি, তিনি ইতোমধ্যে এই ধরনের কল্যাণমূলক, সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন। আপনারা দেখেছেন বিভিন্ন খাল, বদ্ধ নালা, যে সব জায়গা আছে, যেখানে মশার চাষ হয়, এডিস মশা যেখানে জন্ম নেয়, সেই জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন করতে তিনি অভিযান শুরু করেছেন। তাকে আমরা জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আর যে যে পদক্ষেপ সামাজিক হওয়া দরকার, সবগুলো করুন। আক্রান্ত লোকদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। কোনো জায়গায় তারা যাতে চিকিৎসায় অবহেলার শিকার না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। দায়িত্ব পালন করলে সাধুবাদ জানাবো। না করলে অবশ্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।’

এসময় কেন্দ্রীয় ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 




দু-একটি অঘটনের কারণে আলেম সমাজকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়: জামায়াত আমির

দু-একটি অঘটনের কারণে আলেম সমাজকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়: জামায়াত আমির
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দু-একটি অঘটনের কারণে আলেম সমাজকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করা হয়। মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে আয়োজিত জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিসিন এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছেন  জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমিন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আল্লাহর কালামের দিকে মানুষকে ডাকার, প্রিয় নবীর আমলের দিকে মানুষকে ডাকার, এটা করার আগে অবশ্যই আত্মপর্যালোচনা করতে হবে। আজকের তাফসীরের চেয়ারে বসার আগে কোন কথাটা বললে আপনার আমলের সঙ্গে মিল থাকবে, এটা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমন কোনো কথা বলা যাবে না, ভালো হলেও না, যে আমল আপনি করেন না। আগে আপনাকে আমল করতে হবে। তারপরে আপনার অধিকার বর্তাবে আরেকজনকে ডাকা।

তিন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা আমাদের বাধ্যতামূলক। সামষ্টিকভাবে দেশে মাদরাসা আছে, খানকা আছে, মারকাজ আছে, আলিয়া আছে, কওমি আছে। এই জায়গাগুলোতে যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, তাহলে স্কুলে বেশি আছে, কলেজে বেশি আছে, ইউনিভার্সিটিতে বেশি আছে। আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লাহর দোহায় দিয়ে বলি, ওগুলোর সঙ্গে তুলনা করবেন না। ওগুলো আমাদের আদর্শ না, যে আমরা ওগুলোর সঙ্গে তুলনা করব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুই-একটি অঘটনের কারণে গোটা ওলামা সমাজকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। কেন? এই কারণে যে সাদা কাপড়ে দাগ বেশি লাগে, তাই না? সমর্থন দিলে না, কেউ দেওয়ার কথা না। সাদা কাপড়ে দাগ বেশি লাগে না, দাগ বেশি ভাসে, দেখা যায়। অল্প হলেও দেখা যায়।

‘একটা কাপড় যদি গাঢ় রঙের হয়, সেখানে দাগ পড়লে ওটা বোঝা যায় না। আর কালো হলে তো কিছুই বোঝা যায় না। তো যাদের চরিত্র কালো, ওখান থেকে খুঁজে পাবেন না কিছুই আপনি। কিন্তু যার চরিত্র ভালো, ওখানে একটু হালকা দাগ লাগে, দেখা যাবে। কেয়ারফুল হতে হবে এই জায়গাটায়।’




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি আছেন, তিনি বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা দেখেছি সংস্কার ইস্যুতেও তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন।’

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের কার্যালয়ে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে জনগণের সামনে স্পষ্ট যে, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক নেই। এটার জন্য বর্তমান সরকার, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এই সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলে দেশে মব থেমে যাবে, আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক থাকবে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বিশেষত দুটি ঘটনা উদাহরণ হিসেবে দেখলাম। মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। রাতের আঁধারে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেখানে ভাঙচুর হলো। ঢাকা শহরে, রাজধানীতে রাতের বেলা তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর করবে এবং প্রশাসন সেখানে কিছুই করতে পারবে না, এটি হতে পারে না। এটা সরকারি ইন্ধনে, রাষ্ট্রীয় মদদে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মিরপুরের রাড্ডা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও যে ভাঙচুর হলো, এ দুটি ঘটনায় আমরা দেখতে পেলাম যে কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে।  

‘আমরা সালমান মুক্তাদির স্টুডিওর ঘটনাটা দেখলাম। সেখানে এখন ভিক্টিমকে ব্লেমিং করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে একটা ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে, যেখানে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। প্রশাসন সেটাকে বাধা দিতে পারেনি, সেটাকে বন্ধ করতে পারেনি। এখন নানাভাবে সেটা কারা করেছে বা ভিক্টিমের দায় কী, এই ধরনের অনেক নাটক সরকার সাজাচ্ছে।’

তিনি বলেন, এই দুটি ঘটনা হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে। সারা দেশের পরিস্থিতি কিন্তু এইটা। আমরা হবিগঞ্জে দেখলাম সিএনজি স্ট্যান্ড বা অটো স্ট্যান্ড দখল নিয়ে ব্যাপক মারামারি। আমরা সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার ঘটনা নিউজে শুনলাম। সারা দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য। দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী রিসেন্টলি বললেন যে সকল চাকরি, টেন্ডার, সবকিছু দলের লোকেরা পাবে। তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ আমরা দেখলাম, প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় সেখানে প্রায় আড়াই হাজার জনকে চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম, এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। এমনকি আমাদের অনেক যারা আন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন, সহপাঠী ছিলেন, সেরকম অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাদেরকে পর্যায়ক্রমে আবার নেওয়া হবে বা সুযোগ দেওয়া হবে। সকলের আন্দোলনের, প্রতিবাদের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এই কথাটি বলেছেন।

‌‌‘আড়াই হাজার বাদ দেওয়া হয়েছে, কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এখানে একজনকেও বাদ দেওয়া যাবে না। প্রত্যেককেই যথাযথভাবে, সে যদি যোগ্য হয়, পরীক্ষায় টিকে এবং তার বিরুদ্ধে যদি কোনো সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ থাকে, তাহলে তাকে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার নামে এই যে হয়রানি করা বা প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া, এই প্রক্রিয়া থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।’

চাকরিপ্রার্থীদের পাশে জাতীয় নাগরিক পার্টি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যায়ভাবে এই চাকরি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়ব, আমরা তার জন্য কথা বলব, আমরা তার জন্য আন্দোলনে যাব, প্রয়োজনে মাঠে থাকব। এনসিপির কার্যালয়, অফিস তাদের জন্য খোলা আছে। আমরা সবাইকে বলব, যদি আপনারা কেউ মনে করেন আপনাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং সেরকম তথ্য-প্রমাণ যদি আপনারা দেখাতে পারেন, জনগণের সামনে, ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।