যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ আমরাও শান্ত থাকব : ইরান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ আমরাও শান্ত থাকব : ইরান

যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ আমরাও শান্ত থাকব : ইরান
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করা থেকে বিরত থাকবে ইরানও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

শনিবার এবং রোববার রাতে ইরানের কোনো সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মার্কিন ঘাঁটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেনি ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীও। তবে এর আগে টানা ১৩ দিন প্রত্যেক রাতে পরস্পরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেওয়া সেই ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ করে, ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বার্তাও দেওয়া হয়েছে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তবে যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু কর্মসূচির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি।

যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে তেহরান। এতে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, কারণ যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ইরানের শর্ত— যেহেতু হরমুজ প্রনালী ইরানে ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে গিয়েছে, তাই এখন থেকে অন্য কোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ পণ্য পরিবহনের জন্য এই প্রণালি ব্যবহার করলে তেহরানকে টোল দিতে হবে।

তবে ইরানের এই শর্তের তীব্র বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও। এই বিরোধিতার মধ্যেই দু’সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ২টি ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই ঘটনার জের ধরেই টানা ১৩ দিনের হামলা- পাল্টা হামলা চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।

সাম্প্রতিক এই ২ দিনের হামলা বিরতির প্রসঙ্গে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য মাইক ওয়াল্টজ গতকাল রোববার ফক্স নিউজ সানডে-কে দেওেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে হামলায় বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও খানিকটা সুযোগ দিতে চান। এ কারণেই বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”, ফক্স নিউজ সানডেকে বলেছেন মাইক ওয়াল্টজ।

সূত্র : রয়টার্স




যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত-অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত-অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা
ছবি সংগৃহীত।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে এ সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ২১ জুলাই মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে।

বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ, ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।

তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি জুলাই মাসে তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।

নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও কাতার একই কাতারে এসেছে।

বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।

যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচবক অনুসারে, বর্তমান অবস্থাানের জোরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা পাবেন ১৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং বিমানবন্দরে নেমেও কোনো ভিসার আবেদন করতে হবে না; সরাসরি পাসপোর্ট ও রিটার্ন টিকিট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে। এই দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো রুয়ান্ডা, বাহামা, বার্বাডোজ, জাম্বিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, কুক আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।

এছাড়া অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাবেন আরও ১৪টি দেশে। এই দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সীমান্ত ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করতে হয় (কিছু দেশ এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নিয়ে থাকে)। দেশগুলো হলো—ভুটান, বুরুন্ডি, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালু।

এছাড়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস— এই চার দেশে। এ দেশগুলোতে যাওয়ার আগে অনলাইনে একটি ফ্রি বা স্বল্প খরচের ‘প্রাক-ভ্রমণ অনুমোদন’ বা ইটিএ ফরম পূরণ করে অনুমতি নিতে হয়। এটি কোনো প্রথাগত কনসুলার ভিসা নয়, তবে বোর্ডিংয়ের আগে এটি বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের ২০ বছরের পশ্চাৎযাত্রা

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০০৬ সূচকে বাংলাদেশে পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৬৮তম। তারপর থেকে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে পেছাচ্ছে পাসপোর্টের মান। ২০১৫ সালে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৯৯তম।

তবে এ সূচকের ইতিহাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছিল ২০২১ সালের জুলাইয়ে। সেবার পাসপোর্টের মান নেমে গিয়েছিল ১০৮তম অবস্থানে।

তারপর থেকে অবশ্য উন্নতি হতে থাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানের, তা খুব ধীর গতিতে।

২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে নেমে যায় ১০০তম অবস্থানে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই সূচকে অন্যান্য দেশের অবস্থান

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।

ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সূচকে বাংলাদেশের ঠিক পরেই অর্থাৎ ৯৮তম স্থানে রয়েছে নেপাল। নেপালের নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।




দিল্লিতে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির

দিল্লিতে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির
ছবি সংগৃহীত।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও অন্যান্য দাবি পূরণ হওয়ায় আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এরপর যৌথ ঘোষণায় তারা আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দেন এবং বিক্ষোভকারীদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা সাংবাদিকদের বলেন, সরকার তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছে। আর সেই থেকে স্বদিচ্ছার অংশ হিসেবে তারা আন্দোলন সমাপ্ত করছেন।

তারা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি তারা সরাসরি আদায় করে নিয়েছেন। আর দুটি দাবির মধ্যে ছিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া পুলিশি অভিযোগ প্রত্যাহার ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জেরে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন তাদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সরকার তাদের এ দাবিগুলোও মেনে নিয়েছে।

মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, “সরকার যেহেতু আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে তাই আমরা সব আন্দোলনকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, “৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো উগ্র ছিল না, ছিল সাধারণ এবং সরকার এখন এগুলো মেনে নিয়েছে।”

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশ লাউড স্পিকারে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে এখন তারা যেন এখান থেকে সরে যান।

এক মাসের বেশি সময় ধরে তীব্র এ আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া জনাসমাগম আটকাতে সেখানকার ১৬-১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি




অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
ছবি সংগৃহীত।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে, তাহলে আলোচনার কোনো অর্থ হয় না।

আশুতোষ আরও বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস চলবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক জবাব এলে আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকে না।

এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, তারা এখনও তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি তিনটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এগুলো হলো, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি