মৈত্রী পানিবর্ষণে রোয়াংছড়িতে সাংগ্রাই উৎসব, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন কে এস মং

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়ে উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জলকেলি (মৈত্রী পানিবর্ষণ), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়।
রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী কে এস মং।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য মাধবী মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি সাব-জোনের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সৈয়দ রবিউল ইসলাম, রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসমিন আলম তুলি, রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ূন কবির, ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লামং মারমা এবং কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক চনুমং মারমা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক উ. অংশৈচিং মারমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এস মং বলেন,
“বান্দরবান একটি অসাম্প্রদায়িক জেলা, যেখানে সকল জাতিসত্তার মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। আধুনিকতার ভিড়ে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।”
তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নের জন্য আরও ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন।
এদিকে বান্দরবান জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সদস্য মাধবী মারমা আয়োজক কমিটিকে ৭০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
উৎসবে নারী-পুরুষ ও শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মৈত্রী পানিবর্ষণের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি শুভকামনা বিনিময় ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারার চমৎকার উপস্থাপন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি এক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।









